Naya Diganta
আরো ২১ জন মারা গেছেন

দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু কমেছে

আরো ২১ জন মারা গেছেন

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমেছে এবং সুস্থতার হার বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন আরো ২১ জন। এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৩ জনে।
বাসস জানায়, দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ২০২তম দিনে এই ভাইরাসে সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে সুস্থতার হার। ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আগের দিনের চেয়ে গতকাল ৭ জন কম মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৯৩ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৪৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৩৮৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে গতকাল ১৫৭ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ কম।
দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ১০ জনের নমুনা পরীক্ষায় তিন লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯৩২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন দুই লাখ ৬৭ হাজার ২৪ জন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ জন। এর মধ্যে ৪১ জন নগরের ও ১২ জন উপজেলার। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ হাজার ৫৭০ জনে। এ দিন মৃত্যু হয়েছে আরো একজনের। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাতটি ল্যাব ও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে মোট ৭১২টি নমুনা পরীক্ষার পর এ আক্রান্ত ধরা পড়ে।
সিভিল সার্জনের নিয়মিত বুলেটিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৯ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে ৭ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ১৭ জন এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে তিনজন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়। বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ৭ জন, শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ৮ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে দু’জন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ৯টি নমুনা পরীক্ষায় সবাই করোনা নেগেটিভ।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দু’টি পিসিআর ল্যাবে ২৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: সাইফুল ফেরদৌস জানান, এ দিন তাদের ল্যাবে মোট ৭৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ নমুনায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে রামেক হাসপাতালের চারজন রোগী, হাসপাতালের দুইজন কর্মী, নগরীর তিনজন ও সিরাজগঞ্জের একজন আছে। অপর দিকে রামেকের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ড. সাবেরা গুলনাহার জানান, তাদের ল্যাবে ১৮৮ জনের পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৭ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে রাজশাহীর আটজন, নাটোরের চারজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচজন রয়েছেন। এ নিয়ে রাজশাহীতে এখন মোট চার হাজার ৯১৩ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৪৪৯ জন। আর মারা গেছেন ৪৩ জন।
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, গতকাল শুক্রবার কুমিল্লায় ১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে সাত হাজার ৪২০ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। মোট সুস্থ ছয় হাজার ৮৫ জন। মারা যান বরুড়া উপজেলার একজন। মোট মারা যান ২০১ জন। কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা: মো: নিয়াতুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
সূত্র মতে, নতুন আক্রান্তরা হলেন নগরীর ছয়জন, লাকসামের চারজন, বরুড়ার তিনজন, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জের একজন করে। জেলায় সর্বমোট ৩৬ হাজার ৬৬৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনার ফল এসেছে ৩৬ হাজার ২৮ জনের।