Naya Diganta

ক্ষোভ থেকেই ইউএনওর উপর হামলা, আদালতে রবিউলের স্বীকারোক্তি

ক্ষোভ থেকেই ইউএনওর উপর হামলা, আদালতে রবিউলের স্বীকারোক্তি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাননন্দি দিয়েছেন রবিউল ইসলাম। রোববার দুপুরে ইউএনও অফিসের সাবেক মালি আসামি রবিউল ইসলাম (৪২) দিনাজপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আমলী আদালত-৭ এর বিচারক ইসমাইল হোসেনের কাছে দায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন তিনি।

তিনি জানান, ক্ষোভ থেকেই তিনি একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনিই একমাত্র পরিকল্পনাকারী এবং একাই হামলাকারী।

জানা গেছে, দিনাজপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৭ এর বিচারক ইসমাইল হোসেনের আদালতে তোলা হয় রবিউলকে। আদালতে তোলার ৩ ঘন্টা পর বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন রবিউল। জবাববন্দীর পর রবিউলকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রাবিউল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিলেন, এ ঘটনার একমাত্র পরিকল্পনাকারী এবং হামলাকারী তিনি নিজেই। আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যমতে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, লাঠি, মই, চাবিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসাথে তার পরনের প্যান্ট, হাতের ছাপসহ মোবাইলের লোকেশন বিষয়গুলো আলামত হিসেবে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এসব আলামত বিচারকার্যে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্দেহ ভাজন ও প্রযুক্তির সহায়তার মাধ্যমে মাধ্যমে রবিউল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। গত ১২ তারিখে এ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছিলেন রবিউল দায় স্বীকার করে জানিয়েছে এ ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং একমাত্র হামলাকারী তিনি নিজে। পরে তাকে ওই দিনেই আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালতের বিচারক তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিন থেকেই রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে গত বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হয়। ওই দিনই  তাকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ, পরে তাকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।