Naya Diganta

৫ মাসে নমুনা পরীক্ষা পৌনে ১ শতাংশ

বাংলাদেশে প্রথম করোনায় সংক্রমণের ঘোষণা এসেছিল ৮ মার্চ। সে হিসাবে দেশে করোনা শনাক্তের পাঁচ মাস পার হয়েছে গতকাল শনিবার। এ পাঁচ মাসে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে মোট ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৭টি। দেশের জনসংখ্যার হিসেবে এর হার মাত্র শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব মতে, নমুনা পরীক্ষার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ রয়েছে ১৫৪তম স্থানে। প্রথমদিকে নমুনা পরীক্ষায় জটিলতা, পরবর্তী সময়ে জটিলতা কিছু কাটলেও বিনামূল্যে পরীক্ষার সুযোগ বন্ধ, নমুনা পরীক্ষা নিয়ে নানাপর্যায়ের দুর্নীতি, পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট আস্থাহীনতার কারণে দেশের মানুষ নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে সংক্রমণ বা মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি থাকা সত্ত্বেও সাধারণ লোকজনকে নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহী করে তোলা যাচ্ছে না। নমুনা পরীক্ষার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গ। দেশটিতে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে শতভাগ নাগরিককেই। অন্য দিকে ব্রিটেন এ তালিকায় ১৪তম স্থানে রয়েছে। এ পর্যন্ত তারা নমুনা পরীক্ষা করেছে ২৬ দশমিক দুই শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র এ তালিকায় আছে ১৯তম স্থানে। তাদের পরীক্ষার হারও ১৯ দশমিক দুই শতাংশ। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতে সংক্রমণ শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে। এ পর্যন্ত (প্রায় ছয় মাসে) তাদের নমুনা পরীক্ষার হার এক দশমিক ৬৯। উপমহাদেশের আরেক দেশ পাকিস্তানের অবস্থাও এ ক্ষেত্রে খুব একটা সুবিধার নয়। সাড়ে পাঁচ মাসে তাদের নমুনা পরীক্ষার হার এক শতাংশের নিচে (শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ)। ভারত-পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১২৬তম ও ১৪৭তম।
এ দিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩২ জন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৬৫ জন মারা গেলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন আরো দুই হাজার ৬১১ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত হলেন দুই লাখ ৫৫ হাজার ১১৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২০ জন এবং এখন পর্যন্ত এক লাখ ৪৬ হাজার ৬০৪ জন সুস্থ হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে সর্বশেষ এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ২৫ জন এবং নারী ৭ জন। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬৫৫ জন পুরুষ এবং ৭১০ জন নারী মারা গেছেন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৮১-৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১-৮০ বছরের মধ্যে চারজন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে চারজন, ২১-৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৬ জন, চট্টগ্রামে চারজন, খুলনায় পাঁচজন, রাজশাহীতে চারজন, বরিশালে একজন এবং সিলেটে দুইজন রয়েছেন।
বগুড়ায় দুই ব্যবসায়ীর মৃত্যু
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার দুইজন ব্যবসায়ী হেফজুল ইসলাম (৫০) ও সাখাওয়াত হোসেন (৭৫) মারা গেছেন। মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার খায়রুল বাশার মোমিন জানান, শাজাহানপুর উপজেলার বড়পাথার গ্রামের হেফজুল ইসলাম জ¦র ও শ^াসকষ্ট নিয়ে গত শুক্রবার মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। অপর দিকে বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা আব্দুর রহিম রুবেল জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান এলাকার সাখাওয়াত হোসেন গত মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শনিবার বেলা ২টায় মারা যান।
এ দিকে বগুড়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা ঈদের আগে কিছুটা কমলেও এখন আবার বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৮৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে মোট আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ১৮০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪৩ জন করোনা মুক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা এখন ৩ হাজার ৮৭৬ জন। গতকাল শনিবার বগুড়া সিভিল সার্জনের পক্ষে ডা: ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর এ তথ্য জানান। জেলায় করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ১২৫ জন।
নোয়াখালীতে ১ জনের মৃত্যু
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৫৭ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৮ জন। এ নিয়ে নোয়াখালী জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৪৪৬ জন, মৃত্যু ৬৭ জন ও সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৪৩৭ জন। গতকাল শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা: মাসুম ইফতেখার।
টাঙ্গাইলে আরো ৪২ জন আক্রান্ত
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে নতুন করে আরো ৪২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত হলেন এক হাজার ৮৩৫ জন। জেলায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৬৮৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ১২০ জন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে সর্বোচ্চ ১৯ জন, ভূঞাপুরে ১০ জন, কালিহাতীতে পাঁচজন, মধুপুরে চারজন, মির্জাপুর ও নাগরপুরে দুইজন করে রয়েছেন।
বাজিতপুরে আরো ২ জন করোনাক্রান্ত
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে নতুন করে আরো দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের একজন ব্যাংকের ও অপরজন আশা সমিতিতে কর্মরত। গত শুক্রবার রাতে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ডা: তাহলিল হোসেন শাওন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ পর্যন্ত উপজেলায় সর্বমোট ১৭০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ১৫৭ জন।
মাগুরা ১৬ জন আক্রান্ত
মাগুরা সংবাদদাতা জানান, মাগুরায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ রাম প্রসাদ কণ্ডু ও তার স্ত্রীর করোনা পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬০ জন। মাগুরার সিভিল সার্জন ডা: প্রদীপ কুমার সাহা এসব তথ্য জানান। জেলায় নতুন করে ১৬ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৩৯৩ জন। জেলায় এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ মারা গেছে ১০ জন।
চট্টগ্রামে নতুন শনাক্ত ১১৭ জন
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় আরো ১১৭ জনের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯০ জন নগরের ও ২৭ জন বিভিন্ন উপজেলার। এ নিয়ে চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ৯৯১ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় কারো মৃত্যু হয়নি। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৪০ জন। একই সময়ে ১০৫ জনসহ এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৬১ জন। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়াল
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার পেরিয়ে গেছে। গত শুক্রবার নতুন ৩১৪ জন শনাক্ত হওয়ায় বিভাগে এখন মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৯৪ জন। গতকাল শনিবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গোপেন্দ্রনাথ আচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন বগুড়া জেলায়। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৩ হাজার ৫৩২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫১৯, নওগাঁয় ৯৯০, নাটোরে ৬২৮, জয়পুরহাটে ৮০৫, সিরাজগঞ্জে ১ হাজার ৫৬৯ জন এবং পাবনায় ৮৭১ জন শনাক্ত হয়েছেন। শুক্রবার শনাক্ত ৩১৪ জনের মধ্যে ৮৬ জনের বাড়ি বগুড়ায়।
শুক্রবার বিভাগের বগুড়া জেলায় করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গোটা বিভাগে এখন মৃতের সংখ্যা ১৯০ জন। এর মধ্যে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিভাগের ১২৯ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন।
কলারোয়ায় ডাক্তার, ব্যাংকারসহ ৭ ব্যক্তি আক্রান্ত
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, কলারোয়ায় ডাক্তার, ব্যাংকারসহ আরো ৭ ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে কলারোয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮০ জন। ইতোমধ্যে ৬১ জনকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার আসা রিপোর্টে নতুন করে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেনÑ কলারোয়া কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা পৌর সদরের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের জি এম ফৌজি (৫৭), ওয়ারিয়া গ্রামের পিযূষ কুমার ঘোষ (৫৫), মুরারীকাটি গ্রামের হারুনার রশীদ (৪৮), তুলসীডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল্যাহ আল বাকী (৩৬), বাঁটরা গ্রামের হাফিজুর রহমান (৩৩), সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের করোনা ইউনিটের কর্মরত তুলসীডাঙ্গা গ্রামের ডা: হুমাইরা শারমিন (২৬), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশপ্রহরী গাজনা গ্রামের আব্দুল হান্নান (৫১)।
কুমিল্লায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৪৯
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লায় করোনা ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৮২৩ জনে দাঁড়ালো। এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭২ জন সুস্থ হয়েছে। শনিবার কুমিল্লা জেলার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র অনুযায়ী, কুমিল্লায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে চার হাজার ৩৫৮ জন। মোট মারা গেছেন ১৫০ জন।
পোরশায় করোনামুক্ত হলেন ইউএনও
পোরশা (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হামিদ রেজা করোনামুক্ত হয়েছেন। গতকাল শনিবার তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে জ্বরে আক্রান্ত হলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না পরীক্ষার জন্য ১৬ জুলাই নমুনা দেন। ২০ জুলাই তার করোনা পজেটিভ আসে। এর পর থেকে তিনি বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন। তিনি আরো জানান, গত ৩ আগস্ট দ্বিতীয়বার নমুনা প্রদান করলে ৭ আগস্ট তার করোনা ফলাফল নেগেটিভ আসে।