Naya Diganta

পুনরুত্থান

তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে, এই দিব্যি দিয়ে বলছি,
একদিন পৃথিবীর সব মানুষের পুনরুত্থান হবে এখানে,
সেই আওয়াজের সাথে সাথে কবরের দরোজাগুলো
খুলে যাবে, আগুনে পোড়া ছাইভস্ম রূপ নেবে অস্থিতে,
পাউরুটির স্লাইসের ওপর মাখন যেভাবে লেগে যায়
ঠিক সেইভাবে অস্থির ওপর বসে যাবে পুরু চামড়া,
মাথার ওপর ছাদ হয়ে থাকা আকাশটা গুটিয়ে যাবে,
মাটির গভীরে শক্ত পেরেকের মতো পুঁতে রাখা পাথুরে
পাহাড় রঙিন তুলোর মতো উড়তে থাকবে চার পাশে,
স্ফীত হবে সাগর-মহাসাগরের দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি,
নদীগুলো ভরাট হয়ে এবড়ো-খেবড়ো পৃথিবী রূপ নেবে
সমতল প্রান্তরে, প্রস্তুত হয়ে যাবে শেষ বিচারের মাঠ,
প্রত্যেক বনি-আদমের হাতে তুলে দেয়া হবে তার সারা
জীবনের চালচিত্র, কিরামান-কাতেবিন লিখিত জাগতিক
প্রতি সেকেন্ডের খতিয়ান, তোমার হাতেও সেটা থাকবে।

বিশ্বাস তোমাকে করতেই হবে, এই কসম করে বলছি,
সেই একদিন প্রলয়ঙ্করী মহানাদ সব কিছু ছিন্ন ভিন্ন করে
প্রকম্পিত করবে এই পৃথিবীকে, যেন সুরের ওপর সুর,
মহাসুর-মহাগর্জন-মহাবজ্রধ্বনিতে ফেটে যাবে অন্তকর্ণ,
কোটি আলোকবর্ষের দূরতম সূর্য নেমে আসবে মাথার
কাছে, তীব্র তাপদাহে জ্যোতিহীন বিবর্ণ চাঁদ ডুবে যাবে
সূর্যের অগ্নিকুণ্ডের ভেতর, খসে খসে পড়বে নক্ষত্ররাজি।

আতঙ্কে নীল হয়ে যাওয়া চোখ নিয়ে হামাগুড়ি দিতে দিতে
এগিয়ে যাবে পাপীদের দল, ফ্যাকাশে বিবর্ণ মুখগুলো
সেদিন চেনাজানা মানুষগুলোকে চিনতেই পারবে না,
কেউ তাদের পাশেও এসে দাঁড়াবে না, যাদের ইশারায়
পৃথিবীর রেলগাড়ি ভুল গন্তব্যে চলতে শুরু করেছিল
তারা আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলতে জ্বলতে ভস্ম
হয়ে ক্ষুধার্ত জাহান্নামের গ্রাসের ভেতর পুনরায় নিক্ষিপ্ত
হবে, আমি সেই শেষ বিচারের দিনের কথা বলছি ...
যেদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে পুনরুত্থান হবে তাঁর সকল সৃষ্টির।