Naya Diganta

জার্মানি থেকে ১২ হাজার সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

জার্মানি থেকে প্রায় ১২ হাজার মার্কিন সেনা সরানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রতিরক্ষা খাতে জার্মানির কম খরচ করার শাস্তিস্বরূপ এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে সেনাদের সরানো হচ্ছে।
সবমিলিয়ে ১১ হাজার ৯০০ মার্কিন সেনা সরানো হবে জার্মানি থেকে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৪০০ সেনা ফিরে যাবে যুক্তরাষ্ট্রে। তাদের ইউরোপের পূর্বাঞ্চলসহ বিশ্বজুড়ে অন্যত্র মোতায়েন করা হবে। বাকি ৫ হাজার ৬০০ সেনাকে মোতায়েন করা হবে ইতালি ও বেলজিয়ামসহ অন্যান্য ন্যাটো সদস্য দেশগুলোয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই ইউরোপের ন্যাটো দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে আসছেন। তিনি বলছেন, জোটের ব্যয় নির্বাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যাটো সদস্যদের আর খুব বেশি নির্ভর থাকা উচিত হবে না। এর আগে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিজ নিজ দেশের জিডিপির দুই শতাংশে উন্নিত করতে সম্মত হয়। তবে জার্মানিসহ অন্য অনেক দেশ এখন পর্যন্ত ওই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার মঙ্গলবার জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জার্মানি থেকে সেনা সরানো শুরু হবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেননি তিনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, জার্মানিকে প্রতিরক্ষা খাতে কম খরচ করার শাস্তি হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তবে এসপার এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, ন্যাটোকে আরো শক্তিশালী করতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা বৃদ্ধি করতে ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর অপশন বৃদ্ধিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পেন্টাগনের বিবৃতি প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, জার্মানি প্রতিরক্ষা খাতে যথেষ্ট খরচ না করে অবহেলাপূর্ণ আচরণ করছে। তাই তিনি এই সেনা সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্কিন সেনারা সেখানে আছে জার্মানিকে সুরক্ষা দিতে, ঠিক? আর জার্মানি এ সুরক্ষার জন্য অর্থ পরিশোধ করছে না। আমরা চাই না আমাদের এভাবে চুষে খাওয়া হোক। বাণিজ্য ও সামরিক, উভয় খাতে ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।