Naya Diganta

'সাজানো ধর্ষণ' মামলার আসামি স্বামীর মান-সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার দাবি স্ত্রীর

'সাজানো ধর্ষণ' মামলার আসামি স্বামীর মান-সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার দাবি স্ত্রীর

কুমিল্লার চান্দিনায় ৫২ বছর বয়সী স্বামীর বিরুদ্ধে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ আনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও পরিবার। শনিবার সকালে চান্দিনা উপজেলা সাংবাদিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকৃত ঘটনার রহস্য বর্ণনা করে মূল ধর্ষককে আইনের আওতায় এনে সাজানো অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামীর মান-সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জানান স্ত্রী পিয়ারা বেগম।

তিনি জানান, আমার স্বামী মো: সফিউল্লাহ প্রায় ৩০ বছর আগে আমাকে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে আমাদের ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে দুজনের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। আমার স্বামী দীর্ঘ কয়েক বছর বিদেশে চাকরি করার পর শারীরিক অসুস্থতায় দেশে ফিরে এসে গ্রামের বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করেন। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থানে ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু কুচক্রি মহলের সাথে হাত মিলিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা পারভীন নামে এক নারী তার শিশু মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আমার স্বামীর নাম যুক্ত করেন।

প্রকৃতপক্ষে, ওই শিশু মেয়েটিকে তার সম্পর্কের এক মামা ধর্ষণ করায় গর্ভবতী হয়ে পড়ে। প্রায় এক মাস পূর্বে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করায় ওই চিকিৎসক প্রেগনেন্সি টেস্ট করে পজেটিভ আসার পর বিষয়টি জানতে চান। তখন ওই চিকিৎসকের কাছে সর্ব প্রথম তার সম্পর্কের এক মামার নাম প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয় কিছু কুচক্রি মহলের কুপরামর্শে আমার স্বামীর নাম যুক্ত করে আদালতে অভিযোগ করেন। স্থানীয় ওই কুচক্রি মহলটি ওই শিশুর পরিবারের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে বিত্তবানদের কাছ থেকে বাণিজ্য করার আশায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাতে আমরা সামাজিকভাবে চরম অপদস্থ হচ্ছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এদিকে, ভোমরকান্দি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক জাকির হোসেন ভূইয়া জানান, প্রায় এক মাস আগে ওই শিশুকে নিয়ে তার এক মামী আমার এখানে এসে ওই শিশুর প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য বলেন। আমি প্রেগনেন্সি স্টিক দিয়ে টেস্ট করে পজেটিভ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে চাইলে ওই শিশু প্রথমে সোহাগ নামে এক ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেন। পরে আমি গাইনি ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেই।

ভিকটিমের মা পারভিন (৩৬) জানান, আমি চট্টগ্রামে থাকি। মেয়েটি আমার বাবার বাড়ি ভোমরকান্দি গ্রামে থাকে। সোহাগ ও মাসুম মেয়েটির সাথে মাঝেমধ্যে দুষ্টামি করতো। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জানতে পারি শফিউল্লাহ্ ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। যেই দায়ী হোক আমি তার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: শাহ্ সেলিম প্রধান বলেন, আমি বিষয়টি জানি। মো: শফিউল্লাহ্ একজন ব্যবসায়ী, বয়ষ্ক মানুষ, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এভাবে কাদা ছুড়াছুড়ি না করে সবাইকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সুরাহা করার পরামর্শ দিয়েছি।