Naya Diganta

ইসির উদ্যোগ সন্দেহজনক

বিশ্বসহ দেশে কোভিড-১৯ মহামারীর সঙ্কটময় সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন আইনের মতো একটি বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ কোনো বিবেচনাতেই স্বাভাবিক কিংবা সময়োচিত নয়। বরং অস্বাভাবিক, অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য এবং মহলবিশেষের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপকৌশল। এখন আদৌ জরুরি নয়, তেমন একটি কাজ হাতে নেয়া কমিশনের উদ্যোগ সামর্থ্যরে অপব্যয় ও সন্দেহজনক বলে মনে করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনমত সংগ্রহ করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব চূড়ান্ত না করে প্রাসঙ্গিক নতুন আইন প্রণয়নের কার্যক্রম স্থগিত রাখার জোর দাবি জানান।
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গতকাল দুপুরে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল মহাসচিবের চিঠি ইসির সচিবকে প্রদান করেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন, দলটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ ও মোশারফ হোসেন।
সিইসিকে দেয়া চিঠিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইসির পত্রে প্রচলিত আইনের মৌলিক বিধানাবলি অক্ষুণœ রেখে ইংরেজির পরিবর্তে বাংলা ভাষায় প্রণয়নের উদ্যোগের যে কথা বলা হয়েছে তা আপাত দৃষ্টিতে একটি ভালো উদ্যোগ মনে হলেও এমন একটি কাজ করার জন্য যে সময় বেছে নেয়া হয়েছে তা অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, আমাদের দেশসহ সারা বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মহামারীতে বিপন্ন। সরকারি নির্দেশ অফিস-আদালতের কার্যক্রম বন্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত। যখন আইন করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে এবং যখন প্রায় সব রাজনৈতিক দল সাংগঠনিক ও দৈনন্দিন কাজ বন্ধ রেখে আর্ত-মানবতার সেবায় নিমগ্ন, পাশাপাশি জনগণের সব চিন্তা- চেতনা যখন জীবন ও জীবিকা রক্ষায় নিবদ্ধ, সেই সময় ইসির এ উদ্যোগ কোনো বিবেচনাতেই স্বাভাবিক কিংবা সময়োচিত নয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, যেকোনো জনগুরত্বপূর্ণ নতুন আইন প্রণয়নে জনমত গ্রহণ, সংশ্লিষ্টদের অবারিত মত প্রদানের অধিকার এবং আইনের ভাষা ও শব্দচয়নে সতর্কতা গ্রহণ অতিশয় প্রয়োজনীয় পূর্বশর্ত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক দলের নাম ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় রয়েছে। যেকোনো সচেতন নাগরিক সঙ্গতভাবেই প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, নির্বাচন কমিশন কি এসব নাম এবং সংবিধান ও প্রচলিত অন্যান্য আইনের ভাষা অশুদ্ধ মনে করেন? তিনি বলেন, আইনের প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশন আমাদের মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি প্রণীত বাংলা অভিধানকে অগ্রাহ্য করার অধিকার রাখে বলেও আমরা মনে করি না। নতুন এমন একটি আইন করার ফলে সারা দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এবং এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গের পরিচিতি ফলক, প্যাড, সিল, সাইনবোর্ড, বিভিন্ন ফরম ইত্যাদি পরিবর্তনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় হবে।
চিঠিটি হস্তান্তরের পর সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেন, করোনা মহামারীর এ সময়ে দেশের মানুষ যখন জীবন-জীবিকা রক্ষায় ব্যস্ত, তখন কমিশনের এ উদ্যোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, খসড়া আইনে বলা হয়েছে পরপর দুই বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নিবন্ধন বাতিল হবে। বিএনপি একবার নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই বিএনপিকে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে রাখার একটা কৌশল এটা।
তিনি বলেন, খসড়া আইনে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা এগুলো ইসি সচিব মো: আলমগীরের কাছে তুলে ধরেছি। একই সাথে যেহেতু আইন প্রণয়নের এটি সময় নয়, তাই কার্যক্রমটি স্থগিত রাখার দাবি তুলেছি। সচিব জানিয়েছেন, কমিশনের কাছে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরে আলোচনা করবেন। তারপর যে সিদ্ধান্ত আসে, তা আমাদের জানাবেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, আমরা মতামত দিইনি। যেহেতু আমরা প্রক্রিয়াটিই স্থগিতের দাবি জানিয়েছি, তাই কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের বৈঠকে আলোচনা করে আমাদের করণীয় ঠিক করব।