Naya Diganta

লিবিয়ায় হাফতারের শেষ ঘাঁটিতে জিএনএ বাহিনীর প্রবেশ

লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী পশ্চিমে কমান্ডার খলিফা হাফতারের সর্বশেষ বড় দুর্গ তরহুনায় প্রবেশ করেছে বলে গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে দেশটির সরকার। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই হাফতার বাহিনীর ১৪ মাসের আক্রমণাত্মক অবস্থানের আকস্মিক পতন ঘটায়। এর একদিন পরই তরহুনা শহরটিতে সেনাবাহিনী প্রবেশ করেছে। তবে এ ব্যাপারে হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ত্রিপোলিকে খলিফা হাফতারের বাহিনীর হামলা থেকে রক্ষা করার জন্য মার্চ মাসে ‘অপারেশন পিস স্টর্ম’ নামে একটি অভিযান শুরু করে দেশটির সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলসহ আল-ওয়াতিয়া বিমান ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করে সেনাবাহিনী। এটা ছিল হাফতার বাহিনীর জন্য বড় ধরনের একটি ধাক্কা।
তুরস্কের সমর্থনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড (জিএনএ) সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ত্রিপোলিতে আক্রমণ চালিয়ে বিজয় লাভ করে। ত্রিপোলি পুরোপুরি দখল করে দক্ষিণ-পূর্ব দিকের তারহুনা শহরের প্রশাসনিক সীমানায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন ‘বুরকান আল-গাজাব’ নামে ত্রিপোলি দখলে পরিচালিত অভিযানের মুখপাত্র মোস্তফা আল-মাজেই। ত্রিপোলি দখলের পর তারা দক্ষিণাঞ্চলের শহরতলিতে যুদ্ধ এবং সিটি সেন্টারে বোমা হামলা চালাতে উৎসাহিত হয়।
খলিফা হাফতারের মিলিশিয়া বাহিনীর সামরিক যান তারহুনা শহর থেকে বানি ওয়ালিদ শহরের দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। শহরটি ত্রিপোলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। হাফতার বাহিনী রাজধানীতে আক্রমণ চালানোর জন্য তরহুনাকে মূল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল। জিএনএ অপারেশন রুম জানিয়েছে, সরকারের বাহিনী চারদিক থেকে প্রবেশের পরে তরহুনার কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।
জিএনএএর সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ জিনানু বলেন, ‘আমাদের বীর সেনাবাহিনী চার দিক থেকে থেকে তরহুনা শহরে প্রবেশ করে নগরীর কেন্দ্রে পৌঁছেছে। তারা হাফতারের সন্ত্রাসী মিলিশিয়াকে এমন এক উচিত শিক্ষা দিয়েছে যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না’। তরহুনা বাসিন্দা আবদুল সালাম আহমদ জানান, জিএনএ বাহিনী শহরে প্রবেশ করেছে।
লিবিয়ায় লড়াইয়ের সমাধান এখনো বেশ দূরে। এলএনএ এখনো দেশের পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে যেখানে সমান্তরাল প্রশাসন রয়েছে এবং দক্ষিণের বেশির ভাগ অংশ যেখানে দেশের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলো রয়েছে। এলএনএকে সমর্থন করেছে রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর। লিবিয়ায় যুদ্ধরত উভয় পক্ষকে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও যোদ্ধাদের ব্যাপকতর সমাবেশের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসঙ্ঘ।
জিএনএর অপর সামরিক মুখপাত্র মোস্তফা আল-মাজেই বলেছিলেন, এলএনএ শহর থেকে মরুভূমিতে টান দেয়ার পরে সরকারি বাহিনী যুদ্ধ না করেই তারহুনায় প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, ‘শহরের অভ্যন্তরে কোনো প্রতিশোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক ঘটনা ঘটেনি। কয়েকদিন আগে বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা শহরটি ত্যাগ করেছেন। ফলে সেখানে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়েছে’।
জিএনএ প্রধানমন্ত্রী ফয়েজ আল-সররাজ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তার সরকার পুরো লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেবে। তুরস্কের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা শেষে আল-সররাজ আঙ্কারায় বলেছিলেন, ‘শত্রুদের পরাভূত করে পুরো মাতৃভূমিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। যারা দেশটির নাগরিক, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণকে বিপদে ফেলেছে তাদের সকলকে ধ্বংস করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রধান সম্পাদক সামি হামিদি বলেন, ‘নগরটির পতন সম্ভবত রাশিয়ান ও তুর্কিদের মধ্যে একটি সমঝোতামূলক বিনিময় হতে পারে।’