Naya Diganta

হংকংয়ে চীনের জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা নিষিদ্ধ করে আইন পাস

চীনের জাতীয় সঙ্গীতকে অবমাননা নিষিদ্ধ করার একটি বিলকে অনুমোদন দিয়েছে হংকংয়ের আইনসভা। বৃহস্পতিবার আইনটির অনুমোদন দেয়া হয়। এমন দিনে আইনটির অনুমোদন দেয়া হলো যেদিন নগর রাষ্ট্রটিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাজারো মানুষ তিয়ানানমেনে নিহতদের স্মরণে জড়ো হয়েছিলেন।
গণতন্ত্রপন্থীরা আইনটির বিরোধিতা করার পরও তা পাস হয়েছে। এর পক্ষে ভোট পড়েছে ৪১টি। বিপক্ষে ছিল মাত্র ১ ভোট। বেশির ভাগ গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতারা প্রতিবাদে ভোট দানে বিরত ছিলেন। গণতন্ত্রপন্থীদের দাবি, এই জাতীয় সঙ্গীত বিল মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মূল চীনা ভূখণ্ডের চেয়ে আধা-স্বায়ত্তশাসিত শহরের নাগরিকদের বেশি স্বাধীনতা পাওয়া সুবিধার পরিপন্থী।
চীনপন্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতারা এটিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। যাতে করে হংকংয়ের নাগরিকরা চীনের জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদর্শন করেন। আইন অনুসারে, ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ চীনের জাতীয় সঙ্গীত ‘মার্চ অব দ্য ভলান্টিয়ার্স’কে অবমাননা করলে তিন বছর ও ৫০ হাজার হংকং ডলার সাজার মুখোমুখি হবেন। গণতন্ত্রপন্থীরা প্রতিবাদ করলে আইনটি নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক বাতিল করা হয়। হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি। দেড় শ’ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকংকে চীনের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছিল।
এ দিকে রয়টার্স জানায়, হংকংয়ে হাজার হাজার মানুষ নিষেধাজ্ঞা ভেঙে চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ১৯৮৯ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনাভিযানের ৩১তম বর্ষপূর্তি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার হংকংয়ের বিভিন্ন জায়গায় মোমবাতি মিছিল হয়েছে। ভিক্টোরিয়া পার্কে হংকংয়ের স্বাধীনতাপন্থী এবং চীনবিরোধী সেøাগান দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। মং কক এলাকায় বিক্ষোভকারীরা ধাতব বেস্টনী দিয়ে রাস্তা আবরোধের চেষ্টা চালালে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মরিচের গুঁড়ার ¯েপ্র ছুড়ে পুলিশ।
হংকংয়ে ১৯৯০ সাল থেকেই তিয়েনআনমেন অভিযানে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি মিছিল হয়ে আসছে। এ বছর করোনাভাইরাস সঙ্কটের কথা বলে হংকং পুলিশ মোমবাতি মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। হংকংবাসীরা তা উপেক্ষা করায় এবারই প্রথমবারের মতো অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। হংকংয়ে দিবসটি উপলক্ষে সাধারণত বিশাল জনসমাগম হয়।
এবার হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করে তা ঠেকানোর প্রস্তুতি নওয়া হয়েছিল আগেই।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এবারই হয়তো শেষবারের মতো দিবসটি পালন করতে পারছেন তারা। কিন্তু হংকংবাসী কখনো রক্তক্ষয়ী সেই ৪ জুনকে ভুলে যাবে না। ১৯৮৯ সালের এ দিনটিতেই চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভে নামা শত শত ছাত্র-শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছিল ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকার।