Naya Diganta

বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিলেন খাশোগির ছেলেরা

বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিলেন খাশোগির ছেলেরা

তুরস্কে সৌদি আরবের কন্স্যুলেটের ভেতর খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাশোগির ছেলেরা বলেছেন, তারা তাদের বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। নিহত সৌদি সাংবাদিকের ছেলে সালাহ খাশোগি গতকাল শুক্রবার টুইটারে বলেছেন, ‘আমরা শহীদ জামাল খাশোগির ছেলেরা ঘোষণা করছি, যারা আমাদের বাবার হত্যাকারী, আমরা তাদের ক্ষমা ও মার্জনা করছি।’ সালাহ খাশোগি আরো লিখেছেন, ‘পবিত্র রমজান মাসের পবিত্র এ রাতে আল্লাহর এক বাণীর কথা স্মরণ করছি। আল্লাহ বলেছেন : যদি কেউ কাউকে ক্ষমা করে দেয় ও সমন্বয় করে নেয়, তবে তার পুরস্কার আল্লাহই দেবেন। সুতরাং, আমরা শহীদ জামাল খাশোগির পুত্ররা ঘোষণা করছি যে, যারা আমাদের বাবাকে হত্যা করেছে তাদের ক্ষমা করে দিচ্ছি। মহান আল্লাহ এর পুরস্কার দেবেন।’
সৌদি আরবে থাকা সালাহর এ ঘোষণা খাশোগি হত্যাকাণ্ডে শাস্তি প্রাপ্তদের সাজায় কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে কি না তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে খাশোগির হত্যাকারীদের ক্ষমা করার অধিকার কারো নেই বলে দাবি করেছেন তার বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। খাশোগির ছেলে টুইটারে বিবৃতি দেয়ার পর হেতিস পাল্টা টুইটে এ দাবি করেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে শুক্রবার টুইট করেছেন হেতিস চেঙ্গিস। তিনি লিখেছেন, ‘তাকে যে নির্মম কায়দায় ও জঘন্য উপায়ে হত্যা করা হয়েছে, তার হত্যাকারীদের ক্ষমা করার অধিকার কারো নেই। জামালের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না, অন্যরা থামবে না।’ তিনি আরো বলেন, যারা হত্যা করেছে এবং যারা হত্যার নির্দেশ দিয়েছে তাদের ক্ষমা নেই।
এক সময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামাল খাশোগি পরে দেশটির শাসনকাঠামো ও শাসকদের তীব্র সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তাম্বুুলের সৌদি কন্স্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কর্মকর্তাদের ভুলে নিহত হন ওই সাংবাদিক। তবে তার লাশের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রিয়াদ থেকে আসা ১৫ গুপ্তচর খাশোগির লাশ গুমে জড়িত ছিল বলে সেসময় আঙ্কারা দাবি করেছিল। সৌদি আরবের কৌঁসুলিরা পরে এ ঘটনায় ১১ জনকে অভিযুক্তও করেন। বিচারে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং বাকিরা ছাড়া পান বলে গত বছরের ডিসেম্বরে জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
তবে তাদের নাম প্রকাশ করেনি সৌদি আরব। অবশ্য তুরস্ক আলাদাভাবে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার দিনে তার সাথেই ছিলেন তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতেই ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুুলের সৌদি কন্স্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন খাশোগি।
সালাহ এর আগে বাবার হত্যাকাণ্ডের বিচারে সৌদি বিচারব্যবস্থার ওপর তার ‘সম্পূর্ণ আস্থা’ আছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। সমালোচকেরা তার বাবার হত্যাকাণ্ডকে নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে ‘ব্যবহার করতে চাইছে’ বলেও অভিযোগ ছিল তার। চলতি বছরের এপ্রিলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে সালাহ ও খাশোগির অন্য সন্তানরা সৌদি সরকারের কাছ থেকে কয়েক কোটি ডলার মূল্যের বাড়ি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ খাশোগির সন্তানদের প্রতি মাসে কয়েক হাজার ডলার করে ভাতা দিচ্ছে বলেও ওই খবরে দাবি করা হয়েছিল। সালাহ সে সময় ওই তথ্যগুলোকে ‘অসত্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে সৌদি সরকারের সাথে কোনো ধরনের আর্থিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ও জাতিসঙ্ঘের এক বিশেষ দূতের মূল্যায়নে সৌদি আরবের ‘ডি ফ্যাক্টো’ শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই ইস্তাম্বুলে সৌদি কন্স্যুলেটের ভেতর খাশোগিকে খুন করা হয় বলে ধারণা দেয়া হয়েছিল। সৌদি আরব শুরু থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্রাউন প্রিন্সের কোনো ধরনের যোগসাজশ ছিল না বলে দাবি করে আসছে।