Naya Diganta

এক শ’ বছরেও এমন ঘূর্ণিঝড় দেখেনি মানুষ

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আমফান এবারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ সমতল এলাকায়। এসব এলাকার ঘরবাড়ি ও গাছগাছালির ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশ। প্রাণহানি কম হলেও বৃহত্তর এ জেলাগুলোতে গত এক শতাব্দীতেও মানুষ এমন ঘূর্ণিঝড় আর দেখেনি। অতীতে দেখা গেছে সুন্দরবন বরাবরই প্রাচীরের মতো দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমের জেলাগুলোকে একধরনের সুরক্ষা দিয়েছে। কিন্তু এবার সেটা হয়নি কেন? ঝড়টির চরিত্র গতিপথ বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় আমফান এবার সুন্দরবনের পিঠ ও বুক পাশ কাটিয়ে পশ্চিম অংশ দিয়ে আঘাত হানে। সুন্দরবনের পশ্চিম উপকূল ধরে পশ্চিমবঙ্গের দীঘা, হলদিয়া দিয়ে ওপরে উঠে আসে। ফলে এর গতিবেগ ভূমিতে ১৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল। এ ঘূর্ণিঝড় কলকাতা দুই চব্বিশ পরগনা শ্রীরামপুর বারাসাত বসিরহাট প্রভৃতি এলাকা দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে প্রায় বাধাহীন হয়ে উত্তর পূর্ব দিকে বাঁক নেয়। এরপর সেটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের দিকে এগোতে থাকে।
বাংলাদেশ ও ভারতে এ পর্যন্ত আঘাত হানা বড় বড় ঘূর্ণিঝড়গুলোর চরিত্রের সাথে এই ঝড়ের মিল তেমনটি নেই। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ১৭৩৭ সালে কলকাতায় একই ধরনের ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল। যশোরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রকৃতিপ্রেমী প্রফেসর আমিরুল আলম খান জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় সাধারণত এমন বিধ্বংসী হয় না। সুন্দরবন সব ঝড়ই বুক চিতিয়ে ঠেকিয়ে দেয়। বাংলা ১৩১৬ সালে এমন আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাস জানা যায়। তার ১২০ বছর পর ২০ মের ঘূর্ণিঝড় ইতিহাস হয়ে থাকল।
এই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডব চালিয়েছে প্রায় ৪ ঘণ্টা। ক্ষয়ক্ষতির এটাও বড় কারণ। প্রফেসর খান জানান, সাতক্ষীরা, খুলনায় ক্ষতি করেছে জলোচ্ছ্বাস। আর যশোর কুষ্টিয়া ফরিদপুর ও চুয়াডাঙ্গা রাজবাড়ী এলাকায় গাছ ও ফসলের ক্ষতি বেশুমার। গতিপথ পরিবর্তন করে আমফান কোটি কোটি মানুষকে পথে বসিয়েছে।