Naya Diganta

করোনায় কোন দেশে কতজন আক্রান্ত

কোভিড-১৯ যা করোনাভাইরাস নামে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে একমাত্র আলোচনার বিষয়। ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। তবে এর সব থেকে ভয়াবহ আক্রমণে পরেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো। এশিয়াও আক্রান্তে পিছিয়ে নেই।

চীন থেকে ভাইরাসটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরার পর থেকেই আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার পর্যন্ত বিশ্ব জরিপ ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বমোট আক্রান্ত ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫১। মৃত্যুর সংখ্যাও শীর্ষে দেশটি। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই কোভিড-১৯'এ ৯০ হাজার ৯৮০ জন মারা গেছে।

আক্রান্তে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইউরোপের দেশ রাশিয়া। মে মাসের শুরু থেকে হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়েছে দেশটিতে। রাশিয়ায় মোট আক্রান্ত দুই লাখ ৯০ হাজার ৬৭৮ ও মৃত দুই হাজার ৭২২। তবে মৃতের তালিকায় মার্কিন রাষ্ট্রের পরেই আছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে দুই লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৫ জনের মধ্যে মারা গেছে ৩৪ হাজার ৬৩৬ জন।

এছাড়াও স্পেনে দুই লাখ ৭৭ হাজার ৭১৯, ব্রাজিলে দুই লাখ ৪১ হাজার ৮০, ইতালিতে দুই লাখ ২৫ হাজার ৪৩৫, ফ্রান্সে এক লাখ ৭৯ হাজার ৫৬৯, জার্মানিতে এক লাখ ৭৬ হাজার ৬৫১ জন আক্রান্ত হয়েছে।

করোনার হটস্পট প্রমাণিত দেশ ইতালিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩১ হাজার ৯০৮ হলেও বর্তমানে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত ২৪ ঘন্টায় ইতালিতে মারা গেছে মাত্র ১৪৫ জন দুই মাস আগে যেখানে সংখ্যাটি ছিল হাজারের কাছাকাছি। তবে মৃত্যু বেড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেও। এখন দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ হাজার ১২২ জন।

তুরস্কে সর্বমোট আক্রান্ত এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৩৫ ও মৃত্যু ৪ হাজার ১৪০, এরপর ইরানে মোট আক্রান্ত এক লাখ ২০ হাজার ১৯৮, ভারতে ৯৬ হাজার ১৬৯ যা বেড়েছে মাত্র এক মাসে, সৌদি আরবে ৫৪ হাজার ৭৫২, পাকিস্তানে ৪২ হাজার ১২৫, কাতারে ৩২ হাজার ৬০৪ আর বাংলাদেশে ২৩ হাজার ৮৭০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত দেশের মধ্যে নবম অবস্থানে রয়েছে। তবে ভাইরাসের আতুড়ঘর চীনে মোটামুটি স্থির রয়েছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৮২ হাজার ৯৫৪ ও মৃত্যুর সংখ্যা চার হাজার ৬৩৪। গত ১৭ মে চীনে মাত্র একটি মৃতের ঘটনা ঘটেছে।

আফ্রিকার দেশগুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়ে অনেক আগে। ভাইরাস প্রতিরোধে আফ্রিকার দেশগুলোতে লকডাউন দেয়ায় ব্যাপক অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, আলজেরিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, ঘানা আক্রান্তের শীর্ষ দেশগুলোর কয়েকটি।

সারাবিশ্বে বিভিন্ন রাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে এই ভাইরাসটিতে একটি দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে আক্রান্ত হওয়ার পর ওই দেশটিতে আক্রান্তের হার ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হতে দেখা যায়।

সূত্র : ওয়ার্ল্ডোমিটারস