Naya Diganta

সীমিতভাবে গণপরিবহন চালুর সুপারিশ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে লকডাউন পরিস্থিতিতে সীমিতভাবে গণপরিবহন চালুর সুপারিশ করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের ডাকা ‘অবস্থান কর্মসূচি’তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি সরকারের কাছে এ সুপারিশ করেন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের উদ্যোগে ‘তিন মাসের বাড়ি, মেস ও দোকান ভাড়াসহ বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিল এবং হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশ জারি ও ভর্তুকির দাবিতে তিন ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “আজকে পথে পথে গাড়ি-ঘোড়া চলতে শুরু করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বাহন গণপরিবহন চালু হয়নি। সেকারণে আমার একান্ত সুপারিশ প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর গণপরিবহন চালু করা প্রয়োজন। অপর পক্ষে প্রতি দুই দিন সাপ্তাহে প্রাইভেট কার চালানো বন্ধ রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করে তা ধাপে ধাপে ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে, তবে বিধিনিষেধের মধ্যে দোকানপাট খোলা রয়েছে। এসময় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য দুই মাস সরকারি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন জাফরুল্লাহ।

৫০ লাখ পরিবারকে ঈদ উপহার হিসেবে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তাকে সাধুবাদ জানান তিনি। এসময় তিনি সারা দেশে ২ কোটি প্রান্তিক মানুষের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানো ও কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান কেনার সময় মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহবান জানান।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “শহরে বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষজন ভাড়া বাড়িতে থাকেন। করোনা পরিস্থতির কারণে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। তাই তারা বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে পারছে না, বিভিন্ন সেবামূলক বিল পরিশোধ করতে পারছে না। এদেরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫০% প্রণোদনা দিন।”

আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুহম্মদ মাহমুদুল হাসান-এর আহবানে উক্ত অবস্থান ধর্মঘটে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, রাবেতাতুল উম্মাহ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা এনামুল হক মূসা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান হেলাল, শরিয়তপুর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক ও আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের সহ-সভাপতি এস, এম আবুল কালাম আজাদ, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক আনোয়ার, মো: জুয়েল রানা, মো: মনিরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম তালুকদার, মো: জসিম উদ্দিন সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।