Naya Diganta

সঠিক সিদ্ধান্ত কিভাবে হয়

সঠিক সিদ্ধান্ত কিভাবে হয়

প্রশ্নটি আমি অনেককে জিজ্ঞাসা করেছি এবং অনেকেই জবাবে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আগে যে সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছিল, তা সঠিক ছিল কিনা তা দৃশ্যত নির্ধারিত হয় এর ফলাফল দেখে। অর্থাৎ কোনো সিদ্ধান্ত থেকে কী ফলাফল এলো তথা ভালো হলো না খারাপ হলো তা দেখি। এর আলোকে বলা যেতে পারে, ভবিষ্যতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময় আমাদের উচিত হবে এর সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা। আর আমরা যে সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছি, তার সম্ভাব্য ফলাফল কল্যাণকর বলে মনে হয়, তাহলেই সেটি হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু বিষয়টি কি এতই সরল?

এটা অনেকটাই নির্ভর করে কোনটা আমাদের জন্য কল্যাণকর বা ক্ষতিকর হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি, তার ওপর। এটা হয়ে যায় সম্পূর্ণ বিষয়গত। আমাদের প্রত্যেকের উপকারের মাত্রাটা অবশ্য বিভিন্ন রকম। সন্তুষ্টি কারো কারো কাছে আপাতত, আবার কারো কাছে অন্যের অনুভূতি অথবা গভীর উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যমে। একটা ব্যর্থতা বা আগের কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কাজটা হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে অদেখা কিছু ফ্যাক্টরও হতে পারে পরবর্তী ক্ষেত্রে বড় সাফল্য। এটা সত্য কখনো কখনো শেষ পরিণতি কী হতে পারে তা জানার পরও আমরা হয়তো কোনো রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাই। এমনও হয় কাউকে ভালোবাসার সিদ্ধান্ত সঠিক হিসাবে নিয়ে আগানোর পর শেষ মুহূর্তে মনে হয় এটা ভুল, কিছু অপ্রত্যাশিত কারণে। ভুল ব্যক্তিকে ভালবাসার সিদ্ধান্ত বা ভুল হিসেবে বিবেচনা করা আমাদের মধ্যে এই উপলব্ধি আনে যে আরো ভালো কিছু করার পথ প্রশস্ত করতে পারে ভবিষ্যতে। তাদের পক্ষে কোন সিদ্ধান্ত সঠিক তা নিয়ে অনেকেই অবাক হন। একটি জটিল গাণিতিক সমাধান সন্ধান করার মতো সমীকরণ মানুষ পেতে চায়, কোনো কোনো ভবিষ্যৎ বক্তা হয়তো পরামর্শ দেন যে তারা সঠিক ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে বা কোন পথে আগাতে হবে।

তবে আমি বিশ্বাস করি আমাদের জীবন অনেক জটিল হিসাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি হ্রাস করতে সক্ষম, সঠিক বা ভুল কি হতে পারে তা শুধু প্রশ্ন। এক্ষেত্রে কাছের বা দূরের অনেক বিষয় জড়িত, আমাদের আশেপাশের অনেকেই আছেন তারা কী ভূমিকা নিবে তার উপর নির্ভরশীল,এমনকি কিছু অপ্রত্যাশিত সুযোগ, তাও অনেক ক্ষেত্রে কাজে লাগে।

জীবন একটি অভিযান। আমরা পৃথিবী কে দেখতে পারি খোলা চোখে এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা এক একটি বিরাট বড় আত্মোপলব্ধি। আমাদের মনোভাব ও মানসিকতা যা আমাদের প্রতি দেখতে দেয়, সিদ্ধান্তটি সঠিক বা ভুল হিসেবে নয়, একটি হিসাবে এর অর্থ সামনে এগিয়ে যাওয়া, সত্যের পথে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে।

ভুলের চক্রকে ভাঙা
এটা একটি অনস্বীকার্য সত্য যে প্রায়ই আমরা নিজেই নিজের সমস্যা তৈরি করি, ভুল পছন্দ করি। আমরা কখনো কোনো আবেগের কারণে নেয়া ভুল সিদ্ধান্তে পরে কষ্ট পাই, আমরা আমাদের অনুভূতিগুলোকে মুক্ত করে তুলি। যখন সিদ্ধান্তের শেষ ফলাফলটা আমাদের অসন্তুষ্ট করে, তখন বুঝি যে আমাদের সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল, আমরা অনুশোচনায় ভুগি। কিন্তু তখনও কি আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করি? আমাদের সবচেয়ে বোকামি, ভুল কাজটা আবার করি। এর আরেকটি কারণ, কোনো একটি দুর্বলতার কারণে আবার আমরা গোড়া থেকে ভুল করি। আমাদের কিছু হাস্যকর বা অযৌক্তিক কারণে ভুল সিদ্ধান্তে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের কিছু দুর্বলতা ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একই থাকে।

কোনো ভুল সিদ্ধান্তের উপর মনোযোগের অভাব থাকুক বা না থাকুক, যদি কেউ নির্ভর করে, তবে তা তার অজান্তেই তার ক্রিয়ালাপকে নিয়ন্ত্রণ করবে। কোনো খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে বা কোনো দুর্বলতার কারণে, আমাদের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি হয় একের পর এক। আমরা সচেতন না হলে আমাদের ব্যক্তিগত দুর্বলতাগুলো বারবার আমাদের ভুল পথেই নিয়ে যাবে।

অতএব, প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করা দরকার, যে বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত আমাদের ক্ষতির কারণ হবে, ওই পদক্ষেপগুলো কেন নেই? এই অসন্তুষ্ট প্রয়োজনের উৎস কি? তারা কি কোনো চাহিদা পূরণ করে? একবার আমরা যদি প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজি, তবে আমরা সক্ষম হব, আমাদের দুর্বলতাগুলোকে চিহ্নিত করতে, এবং খারাপ পরিস্থিতি এড়াতে যা শুধু সমস্যা তৈরি করে। ভুলের পুনরাবৃত্তির যন্ত্রণা ও পরিণামের চক্র থেকে আমরা বুঝতে পারবো আমাদের ভুলের উৎস ও প্রতিকারের পথ।

লেখক অধ্যাপক ড. ফ্রেডারিক এডওয়ার্ড ফিবুলা ফিলিপাইনের গ্রাজুয়েট স্কুলের গবেষক ও ডিন। তিনি তার অথেনটিক সেলফ নামের বইতে আমাদের প্রতিদিনকার ব্যক্তিগত, মানসিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোর কারণ ও এর সমাধানের রূপরেখা দেয়ার প্রয়াস চালিয়েছেন। তার লেখাগুলো ৭০টির বেশি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

ভাষান্তর : রেজাউল আজিম