Naya Diganta

তুরস্কের অভূতপূর্ব পদক্ষেপ, করোনা রোগীর রক্ত বাঁচাবে অন্যের জীবন

তুরস্ক করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা হিসেবে প্লাজমা থেরাপি পরীক্ষা শুরু করেছে। এই পরীক্ষাটি করা হয়েছে এক তুরস্কের যুবকের উপর। তিনি কোভিড-১৯ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। ওই যুবকে এই রোগের চিকিৎসায় প্রথম স্বেচ্ছাসেবী ডোনার হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

যুবকের নাম ফুরাত ওরাল, তার বয়স ২৯ বছর। তাকে গত ২৩ মার্চ দক্ষিণ ইজমিরের এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ১২ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন।

তিনি সুস্থ হয়ে বলেন, আমি যদি ভাইরাসটির বিরুদ্ধে জিততে কাউকে সাহায্য করতে পারলে আমি খুশি। আমি প্লাজমা পরীক্ষার ডোনার হতে চাই। যেন আমার রক্ত অন্য কারোর জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে।

তিনি আরো বলেন, আমার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাকে লড়াই করতে সাহায্য করেছে। এটি খুবই ভয়ানক রোগ। কেউ বলতে পারে না এই রোগে আমি কিভাবে আক্রান্ত হয়েছি।

এই মহামারিতে তুরস্কের হাসপাতাল ও রেড ক্রিসেন্ট হেলথ সেন্টারে ফ্লু’তে ব্যবহৃত ১০০ বছরের চিকিৎসা পদ্ধতি ও হামের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ কোভিড-১৯ 'এ ভ্যাকসিন হিসেবে ব্যবহার করেছে। সুস্থ হওয়া রোগীদের রক্ত ব্যবহার করে সিরাম থেরাপি সার্স ও ইবোলার মতো কোভিড-১৯ আক্রান্ত দুর্বল রোগীদের জন্য ভ্যাকসিন হিসেবে কাজ করবে বলে চিকিৎসকদের ধারণা।

মূলত এই পরীক্ষায় সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তির আন্টিবডি সমৃদ্ধ প্লাজমা কোভিড-১৯ রোগীদের রক্তে দেয়া হবে। যেসব রোগী শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর অবস্থায় আছেন তাদের উপর পরীক্ষা করা হবে। এতে অ্যালভিওলাইয়ের এর ক্ষতিসহ শ্বাসকষ্টের অসুবিধায় রোগীর শরীরের প্রতিরক্ষা বেড়ে ভাইরাসটিকে দমন করে কিনা।

তুরস্কের বৃহত্তম মানবিক সংস্থার সভাপতি কেরেম কানকের বলেন, কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্লাজমা দাতা হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি পূর্বশর্ত রয়েছে। প্রথমত ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো তাকে করোনাভাইরাস পজেটিভ হতে হবে। আর দ্বিতীয়ত তাকে এর থেকে পুরোপুরিভাবে সেরে উঠতে হবে।

ভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগী সুস্থ হওয়ার ১৪ দিন পর তাদের আবারো নাসোফেরেঞ্জিয়াল সোয়্যাবের মাধ্যমে ও রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয় রোগীর শরীরে প্রয়োজনীয় এন্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা। এই প্রক্রিয়াটির জন্য আনবিক পলিমারেজ চেইন রিয়েকশন (পিসিআর) পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।

আগামী সপ্তাহ থেকে তুরস্কের রেড ক্রিসেন্ট ও হাসপাতালগুলো প্লাজমা সংগ্রহ শুরু করবে।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ