Naya Diganta

বরযাত্রী সেজে চুরি, টার্গেট থাকে শিশু অপহরণের

সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সাতজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সাতজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার দিবাগত রাতে রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জের বাঘমারা এবং ডেমরা থানাধীন পূর্ব বক্সনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের দখল হতে চোরাইকৃত পাঁচটি অত্যাধুনিক স্মার্ট ফোন, একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি হাই কনফিগারেশন ল্যাপটপ ও নগদ ৫ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো: শাহাজালাল শাংখা (৩৫), আব্দুল কাদির জিলানী (১৯), মো: সাদ্দাম (২৪), আরিফুল ইসলাম ওরফে মিঠু (২৮), মো: নুর উদ্দিন বাবু (২৯), মো: সুজন (২৩) ও মো: শাহিন মিয়া (৪০)।

এই চোর চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কখনো বিয়ে বাড়িতে বরযাত্রীর ছদ্মবেশে আবার কখনো গণপরিবহনে সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে স্বর্ণালংকার, মূল্যবান ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী তথা স্মার্টফোন, ল্যাপটপসহ নগদ টাকা চুরি করে আসছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো: নাজমুল হাসান।

তিনি জানান, এটি একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র এবং মো: শাহজালাল ওরফে শাংখা এই চক্রের মূলহোতা। শাংখা মো: শাহজালাল এর খেতাবী নাম। এই চোর চক্র প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের চুরির কৌশল সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। তারা জানায় যে, চুরি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা বিয়েবাড়িকে প্রধান টার্গেট হিসেবে নিয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে টার্গেট করার পর বিয়ে বাড়ি চিনে আসা এবং ওই বিয়ে বাড়ি ও বিয়ের দিন-তারিখ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা জন্য তাদের দলের সদস্যদের মধ্য হতে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। অতঃপর তারা বিয়ের নির্ধারিত তারিখে বরযাত্রীর ছদ্মবেশে বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। যথারীতি বিয়ে বাড়ির বিভিন্ন ঘরে প্রবেশ করে সুবিধাজনক সময়ে মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন- স্বর্ণালংকার, স্মার্টফোন, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ইত্যাদি চুরি করে। এভাবে চুরির একটি মূল্যবান বস্তু তাদের হস্তগত হওয়া মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিয়ে বাড়ির বাইরে অবস্থানরত তাদের দলের অন্যান্য সদস্যের কাছে হস্তান্তর করে যেন মূল চোর ধরা না পড়ে। এছাড়াও বিয়ে বাড়িতে তাদের অন্যতম টার্গেট হচ্ছে শিশু ও কিশোরী মেয়ে। বিয়ে বাড়িতে অতিথিদের ভিড়ের মুখে এই সমস্ত টার্গেট করা শিশু ও কিশোরীদের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছোঁ মেরে ছিড়ে নিয়ে থাকে। শিশু ও কিশোরীরা বিয়ে বাড়িতে বিভিন্ন আনন্দে মেতে থাকায় অসাবধানতাবশত এই চক্রের অন্যতম টার্গেট হয়ে থাকে।

তিনি জানান, সংঘবদ্ধ চোর চক্রের অন্যতম আরেকটি টার্গেট হচ্ছে বিভিন্ন গণপরিবহন যেমন- বাস, ট্রেন ও লঞ্চ। এই সমস্ত গণপরিবহনে তাদের প্রধান টার্গেট পাঞ্জাবী ও ঢোলা কাপড় পরিহিত বিভিন্ন সাধারণ যাত্রী। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে টার্গেটকৃত ব্যক্তির চারপাশে তারা অবস্থান নেয়। অতঃপর উক্ত ব্যক্তির পাঞ্জাবী বা ঢোলা কাপড়ের পকেট হতে ওই ব্যক্তির অজ্ঞাতসারে মোবাইল, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ইত্যাদি চুরি করে। চুরির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া মাত্রই পূর্বের ন্যায় চোরাইকৃত মালামাল দলের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে যেন মূল চোর ধরা পড়লেও তার কাছে চোরাই মালামাল পাওয়া না যায়। পরবর্তীতে তারা চোরাইকৃত মালামাল মো: শাহজালাল শাংখার নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে সারুলিয়া, ডেমরায় অবস্থিত জুয়েলারি দোকানসহ বিভিন্ন বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে।

বিগত প্রায় ১০ বছর যাবৎ এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি উক্ত পেশায় জড়িত এবং তাদের চাতুর্য্যরে কারণে বিগত দিনে তারা কখনোই ধরা পড়েনি। চুরিই তাদের একমাত্র পেশা। সম্প্রতি চোর চক্রের প্রধান শাহজালাল শাংখা তার শ্যালক আব্দুল কাদের জিলানীকে চুরি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এই পেশায় নিয়োজিত করেছে। এভাবে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন নতুন সদস্য তাদের দলের সাথে যুক্ত করে থাকে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।