Naya Diganta

প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ইশরাকের গণসংযোগে জনস্রোত

প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ইশরাকের গণসংযোগে জনস্রোত

আসন্ন ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিন বৃহস্পতিবার। এর একদিন আগে বুধবার ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ পরিণত হয়েছে জনস্রোতে।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল দেখা যায় অবিভক্ত ঢাকার সাবেক সফল মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের গনসংযোগে।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে তত লোক বাড়ছে ইশরাকের গনসংযোগগুলোতে। এরই ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যায় বুধবারের গনসংযোগে। দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর সিদ্দিক বাজার এলাকার সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণীর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মার্কেট এর সামনে দিয়ে ১৭ তম দিনের গণসংযোগ শুরু করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী।

এ সময় তার গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেন ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবকদল সহ বিএনপি’র সকল সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে মঙ্গলবারের মতো বুধবারের গণসংযোগেও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্য করার মতো। এছাড়াও অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, সরকারী কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

গণসংযোগে অংশ নেয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, আমাদের এই স্লোগান আমাদের এই রাজপথের গণসংযোগ শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারণা নয়, এটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির স্লোগান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির গণসংযোগ। আমরা বিশ্বাস করি ১ ফেব্রুয়ারি দুই সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় এর মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন অগ্নি রূপ ধারণ করবে। তাই আমরা ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী রাজপথে নেমে এসেছি। আমার বিশ্বাস আমাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বিফলে যাবেনা।

সরকারি কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদল নেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে উপলক্ষ করে আমরা রাজপথে এভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির স্লোগান দিতে পারছি। আমার কাছে খুব আনন্দ লাগছে। আমরা চাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্রুত মুক্তি পায়। আমার বিশ্বাস দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী প্রস্তুত। ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষ কে বিজয়ী করার মাধ্যমে তার প্রমান দিবে।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, জনগণ ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু গত জাতীয় নির্বাচনে সরকার যেভাবে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, ঠিক একইভাবে এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি বলতে চাই, সকল অপশক্তির সকল প্রকার ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার জন্য আমরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী প্রস্তুত আছি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য রাজপথে নেমে এসেছে। এবার মানুষ আর কোনো ভয় ভীতিকে পরোয়া করে না। হামলা-মামলা সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং ধানের শীষে ভোট দেয়ার মাধ্যমে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী করবে। জনগনের এখন একটিই স্লোগান ‘গ্রেপ্তার হবো জেলে যাবো, ১ তারিখ কেন্দ্রে যাবো’।