Naya Diganta
পূর্বশত্রুতার জের

আশুলিয়ায় ৩ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে কর্মচারীকে হত্যা

পূর্বশত্রুতার জের

পূর্বশত্রুতার জের ধরে আশুলিয়ায় তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে ফয়েজ আহমদ আকন্দ (৩৫) নামে ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল শুক্রবার বেলা সোয়া ১টায় আশুলিয়ার বাইপাইলে ওমর আলীর মলিকানাধীন সম্ভার ফিলিং স্টেশন ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে ফয়েজকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবার সূত্র জানায়। নিহত ফয়েজ আহমদ আকন্দ ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানাধীন বুরবুরশিয়া এলাকার সফিজ উদ্দিন আকন্দের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাইপাইল এলাকার ওমর আলীর মালিকানাধীন ভবন ও সম্ভার ফিলিং স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।
এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই সফিকুর রহমান আকন্দ বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমার ভাই ফয়েজ আহমদকে সরানোর জন্য ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সোহেলসহ কয়েকজন চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মালিক ওমর আলীর নির্দেশে উল্লেখিত ম্যানেজার সোহেল মোবাইলে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় তার ভাই ফয়েজকে দেখা করার জন্য ডাকেন। সে রাতে দেখা না করায় তার ওপর আরো ক্ষিপ্ত হন সোহেলসহ অভিযুক্তরা। এ ঘটনা মোবাইলে তার ভাই তাকে ওই রাতেই জানিয়েছিল। একপর্যায়ে গতকাল বেলা সোয়া ১টায় ফয়েজকে সম্ভার ফিলিং স্টেশন ভবনের তৃতীয়তলার ছাদের ওপরে নিয়ে তাকে ভীষণ মারধর করে শারীরিকভাবে আহত করে। একপর্যায়ে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে অসাবধনতাবশত পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে।
বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালালেও উল্লেখিতরা মুহূর্তেই গা ঢাকা দিয়ে সরে পড়ে। এতে পুলিশসহ এলাকাবাসীর মনে সন্দেহ হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক একরামুল হক বলেন, ফয়েজকে হত্যা না অসাবধানতায় মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের পরিবার সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং ময়নাতদন্তের পর বিষয়টির ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।