Naya Diganta

তামাক জনিত রোগে বছরে মারা যান এক লাখ ৬১ হাজার : সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, তামাক জনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর দেশে এক লাখ ৬১ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে। এ সম্পর্কিত রোগব্যাধি ও অকাল মৃত্যুর কারণে প্রতি বছর ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

সংসদ বৃহস্পতিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের বেগম শামসুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান। বিকালে স্পিকার ড. শিরীণ শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, দেশে বর্তমানে প্রাপ্ত বয়স্ক ১৫ লাখের অধিক নারী ও পুরুষ এবং ৬১ হাজারের বেশি শিশু আত্মঘাতি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ওই সকল রোগ থেকে রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যানবাহন, রেলস্টেশন ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে ও গণ পরিবহণে ধুমপান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে একটি রোড ম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করতে জেলা ও উপজেলায় ৩২১জন স্যানিটারি ইনস্পেক্টরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে বিভিন্ন জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইন লংঘন করায় ৮৬৬টি ঘটনায় ৬ লাখ ৭২ হাজার ৭শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ভেজাল ঔষধ উৎপাদন-বিক্রয়ের দায়ে ২ হাজার ১৪৫ মামলা 

সরকারী দলের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, ২০১৯ সালে মিডফোর্ডসহ সারা দেশে নকল-ভেজাল ঔষধ উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতে ২ হাজার ১৪৫টি মামলা দায়ের করে ১২ কোটি ৪১ লাখ ৬ হাজার ৪৮৪ টাকা জরিমানা, ৩৯ জনকে কারাদন্ড, ৪৪টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া আনুমানিক ৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের নকল ভেজাল অসুধ জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের নির্দেশে আনুমানিক ৪৬ কোটি ৬২ লাখ মূল্যের মেয়াদউর্ত্তীর্ণ অসুধ ধ্বংস করা হয়।

তিনি আরো বলেন, গত বছর এ কারণে ৪১টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল, ৩টি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন স্থগিত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৯টি ওষুুধের উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মানবহির্ভূত হওয়ায় ৯টি ওষুধের নিবন্ধন বাতিল ও ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি (ডিসিসি) দ্বারা ৯৯টি জেনেরিক ওষুধ বাতিল করা হয়েছে।

রোগী দেখার ফি আদায়ে নীতিমালার চিন্তা 

সরকারী দলের সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, চেম্বারে ডাক্তারদের রোগী দেখা বাবদ ফি আদায়ের বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে। যোগ্যতা ও পদমর্যাদা অনুযায়ী জেনারেল প্র্যাকটিশনার থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লেভেল পর্যন্ত সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য রোগী দেখার ভিজিটের হার নির্ধারণ করা হবে।

বিএনপির রুমিন ফারহানাার এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, দেশে বর্তমানে ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এসব মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিএমএ-ডিসি সময়ে সময়ে পরিদর্শন করে। এছাড়া মেডিকেল কলেজ স্খাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ (সংশোধিত) অনুযায়ী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান মনিটরিং করা হয়।