Naya Diganta

সিটি নির্বাচন পেছানোয় খুশি বিএনপি

পেছাল সিটি নির্বাচন : বিএনপির প্রতিক্রিয়া

স্বরস্বতী পূজোর কথা বিবেচনায় এনে নির্বাচনের তারিখ একদিন পেছানোয় খুশি বিএনপি দলীয় দুই প্রার্থী মেয়র প্রার্থী। নির্বাচনের তারিখ এক দিন পেছানোর ঘোষণা নির্বাচন কমিশন দেয়ার পর ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের ইশরাক হোসেন ও উত্তর সিটি করপোরেশনের তাবিথ আউয়াল এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

গোপীবাগে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ইশরাক বলেন, আমি খুশি যে নির্বাচন কমিশন একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি মনে করি যে, যখন তফসিল ঘোষণা করা হয় তখনই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত ছিলো। তবে যেহেতু এখন সবার দাবির মুখে উনারা সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন এবং একদিন পিছিয়ে- তো এটি একটা ভালো পদক্ষেপ হয়েছে। আমি আশা করছি যে, আমাদের হিন্দু ধর্মালম্বী যারা আছেন তারা হয়তো আরো আনন্দিত হবেন। ভবিষ্যতে যাতে তাদের এই বিষয়গুলো আরো গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় সেটাতে আমি জোর দেবো।

আপনি এই তারিখ মেনে নিয়েছেন? প্রশ্ন করা হলে ধানের শীষের প্রার্থী বলেন, অবশ্যই মেনে নিয়েছি। এটা তো আমার দাবিই ছিলো। আমি তো দাবি করেছি যে, এটা একদিন হলে আগানো হোক বা পেছানো হোক যাই করা হোক পূজোর দিনটা কেনো? এটা তো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাদের জন্য।
আপনারা জানেন যে, একটা বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে, আমাদের পুরান ঢাকায় বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাদের দাবি ছিলো, তারাও আমার সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছেন, আমাকে বলছে যে, মিডিয়ার সামনে কথা বলার জন্য। আমি সেটা করেছি।

উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল তার গুলশানের বাসায় সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়ায় তাবিথ বলেন, আমি খুশি। আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি জনগনের পক্ষে বা জনগনের দাবিতে নির্বাচন কমিশন একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা উচিত ছিলো আরো আগে নেয়া। আগে না নেয়ায় কিন্তু আবারো নির্বাচন কমিশন তার ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিগত ২২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা হয়েছিলো তখনই কিন্তু আমরা নির্বাচন কমিশনকে সর্তক করে দিয়েছিলাম। উনার একটা তারিখ নির্ধারণ করেছেন যেটা অবশ্যই বির্তক সৃষ্টি করবে। কারণ এই তারিখটা (৩০ জানুয়ারি) আমাদের হিন্দু ধর্মের পূজোর সাথে ক্ল্যাশ করে। বিশেষ করে এই স্বরস্বতী পূজোটা বিভিন্ন স্কুল সেন্টারে ব্যবহার করে পূজা উদযাপনের জন্য। ওই তারিখ ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন বলতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক প্রতিক্রিয়া এসেছিলো। উনার কিন্তু কোনো কিছুই আমলে দেন নাই। এখন যখন উনারা বাধ্য হয়েছেন বিভিন্ন প্রেসারে, দেশে তো এই ব্যাপারে ঐক্য আছে। এখন নির্বাচনটা উনার পিছিয়েছেন।
তাবিথ আশাবাদী এখন সকলের মিলে পরিবর্তনের পক্ষে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে ১ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচনের তারিখ পেছানোর পাশপাশি এসএসসি পরীক্ষাও পেছানোর প্রসঙ্গ টেনে তাবিথ বলেন, আমাদের সকল তরুন ছাত্র-ছাত্রীদের বলছি যে, উনাদের এসএসসিও পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। একই সঙ্গে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি যে, মনে যদি কোনো কষ্ট এই মর্মে হয়ে থাকে আমাদের নির্বাচনের জন্য- আমি দূঃখিত সেটার জন্য। ঢাকার উত্তরের বাসীকে বলছি, ১ ফেব্রয়ারি নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য আমি প্রস্তুত। উনারা যেন প্রস্তুত থাকেন। অবশ্যই নিজের ভোট নিজেরা দেবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে। সবাই প্রস্তুতি নিন।