Naya Diganta

সু চির বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে সু চির বক্তব্যের সময় কুতুপালং ক্যাম্পে টিভির সামনে ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গাদের প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে(আইসিজে) মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বক্তব্যের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কক্সবাজারের উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। আদালতে দেয়া বক্তৃতায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সু চি তার দেশের উগ্রবাদী বৌদ্ধ ও সেনাদের গণহত্যা-ধর্ষণের অপরাধ অস্বীকার করেছেন। সু চি বলেছেন, গণহত্যা নয়, সেখানে সেনাবাহিনীর সাথে অস্ত্রধারীদের যুদ্ধ হয়েছে। আর তাতে মানুষ পালিয়েছে।

সু চির এই বক্তব্য ইন্টারনেটের কল্যাণে দেখেছে  সারা বিশ্বের মানুষ। মঙ্গলবার বাদীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর বুধবার মামলার আসামী পক্ষ মিয়ানমার তাদের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেছে। মিয়ানমারের যুক্তি উপস্থাপনের দিন শুরুতে দেশটির প্রতিনিধি দলের প্রধান অং সান সুচি তার সূচনা বক্তব্যে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। আর সু চির এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।

আরাকান রোহিঙ্গা পিস সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মহিব্বুল্লাহ বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে বলেছেন, ‘গণহত্যা হয়নি বলে যে দাবি তারা করছে প্রমাণ সহকারেই বিশ্ব তার বিচার করবে।’

কক্সবাজারের কুতুপালন উদ্বাস্তু শিবিরে বসে তিনি বলেন, একজন চোর কখনোই স্বীকার করবে না যে- সে চোর; কিন্তু প্রমাণ থাকলে তার বিচার করা সম্ভব। আমরা বিশ্বকে সেই প্রমাণ দিয়েছি। এমনকি মিথ্যা বলার জন্য সু চি’র বিচার করা উচিত। তাকেও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বের উচিত তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া।

মোবাইল ফোনে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার কার্যক্রম দেখছেন কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা( ছবি : এএফপি)

সামরিক শাসনের অধীনে দীর্ঘদিন গৃহবন্ধী থাকা সু চি এখন মিয়ানমারে বেসামিরক সরকারের নেতা। তিনি আন্তর্জাতিক আদালতে বলেন, ২০১৭ সালে সশস্ত্র বাহিনীর সাথে লড়াইয়ের পর বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে কয়েক লাখ মানুষ। সেনাবাহিনীর হাতে গণহত্যা, ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

সেনাবাহিনীর ওই অভিযানের সময় জীবন বাাঁচাতে ৭ লাখের বেশির মানুষ পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। সেনাবাহিনী অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে সে সময়। যারা জীবন নিয়ে পালাতে পেরেছে তারা নাফ নদী পার হয়ে আশ্রয় পেয়েছে বাংলাদেশে।

আদালতে সু চির বক্তব্যের পর নিউ ইয়র্কের গ্লোবাল জাস্টিস সেন্টারের প্রেসিডেন্ট আকিলা রাধাকৃষ্ণ এক বিবৃতিতে বলেন, সুচি বলেছেন- সেনাবাহিনীর সাথে রোহিঙ্গাদের সংঘর্ষ হয়েছে এবং কোন গণহত্যা হয়নি। তার এই বক্তব্য পুরোপুরি মিথ্যা।

আকিলা আরো বলেন, অনেক নিরপেক্ষা সংস্থা, বিশেষজ্ঞ এবং রোহিঙ্গারাও বলেছে গণহারে নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে সেখানে। ধর্ষণ করা হয়েছে, সম্পদ বিনষ্ট করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার সরকার অনেক বছর ধরেই রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে।

আদালতে দেয়া সু চির বক্তব্য প্রত্যাখান করেন ‍নুর কামাল নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, সেনারা লোকদের ঘেরাও করে রেখে তারপর গুলি চালিয়েছে। কাউকে কাউকে পুড়িয়ে দিয়েছে- এসব কি গণহত্যা নয়? সু চি যা বলতে তার ভিত্তিতেই কি বিচার হবে?

নুরুল আলম নামের আরেক রোহিঙ্গা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে নৃসংশতায় জড়িত সু চিও। তিনি আদালতে গেছে মিথ্যা বলে ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটারদের মন জয় করতে।

আরো পড়ুন:

‘সু চির জন্য দোয়া করতাম, তিনি আজ খুনিদের পক্ষে’