Naya Diganta

বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি জাতি গঠনে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ হনয়া দিগন্ত

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে শুধু বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত দেশ গঠন করা নয়, পাশাপাশি একটি উন্নত জাতিও গঠন করা। উন্নত জাতি গঠন করার জন্য মেধা-মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধের সমন্বয় প্রয়োজন। বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নতজাতি গঠনে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন। এটি ছাড়া শুধু বস্তুগত উন্নয়ন দিয়ে খুব বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে শুধু উন্নত দেশ গঠন করা সম্ভব, সুরম্য অট্টালিকা হয়, সুরম্য সেতু হয়, নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা যায়, ফ্লাইওভার করা যায়, পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে ফুটোকরে সুড়ঙ্গ পথে রেল চলে। কিন্তু উন্নত জাতি গঠন করা ভিন্ন কাজ।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দু’টি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। একটি হচ্ছে দিনবদল, আরেকটি হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকে দিনবদল হয়েছে, এখন দেশের কোনো শহরের অলিগলিতে কিংবা গ্রামের মেঠোপথে মা আমাকে একটু বাসি ভাত দেন এই ডাক শোনা যায় না। বাসি ভাতের সমস্যা আমরা সমাধান করতে পেরেছি। এখন কবিতায় কুঁড়েঘর আছে, বাস্তবে কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায় না। আকাশ থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহর চেনা যায় না। একইসাথে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৫ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহারকারী রয়েছে। মোবাইলফোনে শুধু কথা বলা যায় না, ভিডিও কল করা যায়। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টাকা পৌঁছে যায়। ভোলার মনপুরা থেকে কৃষক ভাই জমিতে দাঁড়িয়ে পোকার ছবি তুলে সদরের কৃষি কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে সরাসরি পরামর্শ নেন পোকা দমনে কোন ওষুধ দিতে হবে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসব সম্ভব হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের কারণে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করার স্বপ্নের কথা বলেছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হবে দেশকে সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানো শুধু নয়, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নত জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও স্বপ্নের ঠিকানাকে অতিক্রম করতে চায়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপে গত এক শ’ বছরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু সেখানে প্রতি এক শ’টি বিয়ের মধ্যে ৫০টি ভেঙে যাচ্ছে। ইউরোপের কোনো মহাসড়কে যখন দুর্ঘটনা ঘটে পাশ দিয়ে শত শত গাড়ি চলে যায় কেউ একপলক তাকায় না। তাদের অনেক মেধাবী সন্তান ভালো স্কুলে পড়ে, তারা অনেক ভালো শিক্ষা পায়, কিন্তু তারা যখন বড় হয় তখন মা-বাবাকে বয়স্ক পুনর্বাসনকেন্দ্রে দিয়ে দেয়। আমরা উন্নয়ন চাই, তবে সমাজকে ইউরোপের মতো সেই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই না। ইউরোপে আজকে এগুলোই হচ্ছে মাথাব্যথা। মানুষ প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে। তার পরিবারকে নিয়েও ভাবে না। এই আত্মকেন্দ্রিকতা আমাদের সমাজ যেন এই অন্ধ অনুকরণের দিকে অগ্রসর না হয় সেই লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে আমরা বাঙালিরা হয়তো ধনী নই, কিন্তু আমরা মেধার দিক দিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ ও জাতি থেকে ধনী। পৃথিবীর অনেক দেশ ও জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় আমরা মেধাবী। ইউরোপের বাইরে প্রথম যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান তিনি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গাছের যে প্রাণ আছে তা প্রথম যিনি আবিষ্কার করেন তিনি বাঙালি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, আজ থেকে ২০ বছর আগে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন শিকাগোর চিয়ার্স টাওয়ারের স্থপতি বাঙালি ড. এফ আর খান। বর্তমানেও পৃথিবীর অনেক সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণে যুক্ত আছেন বাংলাদেশ থেকে পাস করা প্রকৌশলীরা। বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা শুধু দেশে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তা নয়, তারা সমগ্র পৃথিবীব্যাপী তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। গত ৫১ বছর ধরে চুয়েট যাদের প্রকৌশলী হিসেবে তৈরি করেছে তারা আজকে পৃথিবীব্যাপী অবদান রাখছেন।