২৮ অক্টোবর ২০২১
`

এক ঘোড়ার দাম ৬ কোটি ডলার, বিশ্বের দামী কিছু প্রাণী

ডাবল ডায়মন্ড ভেড়া - ছবি : সংগৃহীত

পশুপাখির অর্থনৈতিক মূল্য কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? পশুপাখিদের কী অর্থনৈতিক মূল্যের ভিত্তিতে পরিমাপ করা উচিৎ? জীবিত কোনো প্রাণীর দাম নির্ধারণ করাও কি আসলে উচিৎ? জীবিত প্রাণী বা প্রকৃতির কোনো উপাদানের দাম নির্ধারণ করার ধারণাটির বিরোধিতা করেন অনেকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পশুপাখি সবসময়ই মানুষের অর্থনৈতিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পশুপাখির মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে মানুষ যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং প্রাণী কেনার ক্ষেত্রে যেই পরিমাণ দাম দিতে রাজি থাকে- তা পর্যবেক্ষণ করলে আমাদের বিশ্ব সম্পর্কে বিচিত্র তথ্য পাওয়া যায়।

পশুপাখি কেনার ক্ষেত্রে মাথা ঘুরিয়ে দেয়া দামের নজির দেখা যায় কৃষিক্ষেত্রে, যেখানে পশুপাখি কেনাবেচা সবসময়ই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত ছিল। যেমন, খামারে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। একটি প্রাণী ভেড়ার কথাই ধরুন। কিছু কিছু অনুমান অনুযায়ী বিশ্বে মোট ভেড়ার সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি। আর এর মধ্যে বেশিরভাগই খুব একটা দামী নয়।

তবে যুক্তরাজ্যের কোনো এক জায়গায় ‘ডাবল ডায়মন্ড’ নামের একটি বিশেষ ভেড়া রয়েছে, যেটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ভেড়াটির দামের পেছনে কারণ এর জিন। নেদারল্যান্ডসের একটি ছোট দ্বীপে পাওয়া যাওয়া টেক্সেল জাতের ভেড়ার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

২০২০ সালের শেষদিকে একদল কৃষকের একটি সঙ্ঘ একটি নিলাম থেকে এই ভেড়াটি কেনে সাড়ে তিন লাখ গিনি, যা যুক্তরাজ্যে গবাদি পশু নিলামের জন্য ব্যবহৃত মুদ্রা বা চার লাখ ৯০ হাজার ৫০০ ডলারে।

ওই সময় সেখানকার এক কৃষক বলেছিলেন, ‘একটা ভেড়ার জন্য এই মূল্য সত্যিই অস্বাভাবিক। কিন্তু আমরা এর জিনের জন্য ভেড়াটি কিনেছি।’

বিশ্বসেরা দামী কুকুর ‘বিগ স্প্ল্যাশ’
খামারে থাকা কুকুরের মধ্যে সবচেয়ে দামী কুকুরটির নাম ‘কিম’। কলি জাতের এই কুকুরটি ২০২১ সালের শুরুর দিকে ওয়েলসে কেনা হয় ২৮ হাজার ৪৫৫ পাউন্ড বা ৩৮ হাজার ৯০০ ডলারে। তবে খামারের প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম গরু আর ষাঁড়ের। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছিল হলস্টেইন জাতের একটি গাভীর নিলাম। মিসি নামের ওই গাভীটি ২০০৯ সালে ১২ লাখ ডলারে কেনা হয়েছিল।

এর ১০ বছর পর ২০১৯ সালে অ্যাঙ্গাস জাতের একটি ষাঁড়, যেটির নাম ছিল ‘এসএভি আমেরিকা ৮০১৮’, ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক উপদেষ্টার কাছে বিক্রি হয় ১৫ দশমিক ১ লাখ ডলারে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এই অঙ্ক দাঁড়ায় ১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বেশি।

পোষা প্রাণী
শুধু খামার শিল্পেই যে প্রাণী কেনাবেচার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক উচ্চ দামের নজির দেখা যায়, তা নয়। কিছু মানুষ পোষা প্রাণীর জন্যও বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করে থাকে। পোষা প্রাণীর মধ্যে কুকুরের দামের হিসেবে সবচেয়ে বেশি দাম ছিল একটি তিব্বতি ম্যাস্টিফের, যেটির নাম বিগ স্প্ল্যাশ।

এক কোটি চাইনিজ ইউয়ান বা ১৫ দশমিক ৫ লাখ ডলারে এই কুকুরটি কেনেন চীনা একজন ব্যবসায়ী। গত কয়েক বছর ধরে চীনে ম্যাস্টিফ জাতের কুকুরকে অনেকটা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্বসেরা বিড়াল কোনটি?
কুকুরের পর এবার বিড়ালের দামের দিকে নজর দেয়া যাক। ঘরে পালন করা বিড়ালের মধ্যে অন্যতম মূল্যবান ধারণা করা হয় সাভানাহ জাতের বিড়ালকে। এই জাতের একটি বিড়ালছানার দাম হতে পারে ২০ হাজার ডলার বা প্রায় ১৭ লাখ টাকা। অবশ্য একটি বিড়ালের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নেই।

কুকুরের মতো বিড়ালের দাম সরাসরি মিলিয়ন ডলার না ছাড়ালেও অন্য পদ্ধতিতে গৃহপালিত বিড়ালের মূল্য যাচাই করার নজির আছে।

গিনেজের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী বিড়াল ছিল ‘ব্ল্যাকি’।

ব্ল্যাকির মালিক ছিলেন একজন অ্যান্টিক পণ্যের ডিলার। তিনি মারা যাওয়ার সময় তার পরিবারের সদস্যদের উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু না দিয়ে ব্ল্যাকিকে দিয়ে যাওয়ায় ১৯৮৮ সালে প্রায় ৯৭ লাখ ডলার (৮০ কোটি টাকা) সম্পত্তির মালিক হয় বিড়ালটি।

তবে এই উদাহরণের সাথে আরেকটি উদাহরণ আনতে হয়। টোবি নামের একটি কুকুর একসময় এর চেয়েও অনেক বেশি সম্পদের মালিক হয়েছিল। ১৯৩১ সালে নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সাথে জড়িত ধনী পরিবারের শেষ উত্তরসূরি এলা ওয়েনডেল মারা যাওয়ার পর টোবি দেড় কোটি ডলারের সম্পদের মালিকানা লাভ করেছিল।

আপনি যদি আয় করা সম্পদের হিসেব করেন, তাহলে সবচেয়ে মূল্যবান পোষা প্রাণীর তালিকায় ‘গ্রাম্পি ক্যাট’ টারডার সস সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে। কিছু অনুমান অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে এর বাজার মূল্য ছিল আনুমানিক ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ডলার।

প্রতিযোগিতার প্রাণী
গিনেজের রেকর্ড অনুযায়ী, যেসব প্রাণী কেনার জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই এমন প্রাণী, যারা প্রতিযোগিতায় রেস করতে পারে। ওজনের হিসেবে এই বিভাগে সবচেয়ে দামী প্রাণী হবে, একটি পাখি। ২০২০ সালের শেষদিকে চীনের এক ক্রেতা ‘নিউ কিম’ নামের একটি কবুতর কিনে নেন ১৬ লাখ ইউরো দাম দিয়ে।

5 (2)

খুব সাধারণ একটি কবুতরের মতো দেখতে হলেও নিউ কিম কবুতরটির দাম ১৮ লাখ ডলার। ছবি : সংগৃহীত

স্বাভাবিকভাবেই রেসের ঘোড়া এই ধরনের প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামী হিসেবে বিবেচিত হয়। গিনেজের হিসেব অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে এক কোটি ৩১ লাখ ডলার দিয়ে কেনা প্রায় দুই বছর বয়সী ঘোড়া ‘সিয়াটল ড্যান্সার’, যা বিশ্বের সবচেয়ে দামী রেসের ঘোড়া।

এরপর এর চেয়ে বেশি দামে আরো কিছু ঘোড়া বিক্রি হয়েছে। যেমন ২০০০ সালে ফুসাইচি পেগাসাস নামের একটি ঘোড়া বিক্রি হয় ছয় কোটি ৪০ লাখ ডলারে।

বন্যপ্রাণীর দাম কিভাবে ঠিক হয়?
পোষা প্রাণী বা রেস করা প্রাণীর মতো বন্যপ্রাণীর দামও কি একই পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হয়? নাকি বন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে হিসাবটা অন্যরকম?

বন্যপ্রাণীর দাম নির্ণয় করার একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেটি পোষা প্রাণী বা গবাদি পশুর দাম যেভাবে নির্ণয় করা হয়, তার চেয়ে ভিন্নভাবে নির্ধারণ করা হয়। গত কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা পরিবেশের বাস্তুসংস্থানের সব উপাদানের মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা করছেন প্রত্যেকটি উপাদান মানবজাতিকে কী ‘সেবা’ দেয়, তার ভিত্তিতে। এই ‘সেবা’র মধ্যে খাদ্য থেকে শুরু করে কার্বন গ্রহণের মাত্রা, পরাগায়ন অথবা পর্যটনের মতো বিষয়ও বিবেচনা করা হয়। অবশ্য অনেক বিজ্ঞানীই বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশের উপাদানকে মূল্যায়নের এই ধারণার বিপক্ষে। তারা মনে করেন, অর্থনৈতিক মূল্য দিয়ে মেপে এই ধরনের বিষয়গুলোর যাচাই করা উচিৎ নয়।

২০১৫ সালে বিবিসি আর্থ পরিবেশের বিভিন্ন প্রাণী ও উপাদানের মূল্যায়নের চেষ্টা করে একটি সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে পরিবেশের একেকটি উপাদান বা প্রাণীর মোট মূল্যের একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। যেমন- পর্যটন শিল্পের জন্য হাঙ্গরের অনুমিত মূল্য ছিল প্রায় ৯৫ কোটি ডলার। আর কানাডার ‘পোলার বেয়ার’ বা শ্বেত ভালুকের মূল্য ধরা হয়েছিল ৬৩০ কোটি ডলার।

এই অনুমান থেকে একটি প্রাণীর দামের আনুমানিক মূল্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। যেমন- কানাডায় ওই সময় শ্বেত ভালুকের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার। কাজেই প্রতিটি ভালুকের দাম ওই সময় ধরা হয়েছিল আনুমানিক চার লাখ ডলার।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের রালফ চামি নামের এক কর্মকর্তা সহকর্মীদের নিয়ে ‘একক প্রাণী’র দাম আরো সঠিকভাবে নির্ণয়ের চেষ্টা চালিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল আফ্রিকার জঙ্গলের হাতি ও দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের বড় তিমির মূল্য নির্ধারণ করা। চামি ও তার সহকর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, একেকটি হাতির মূল্য আসে ১৮ লাখ ডলার।

অন্য দিকে প্রজাতিভেদে তিমির মূল্য ছিল এক লাখ ৬৫ হাজার ডলার থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত।

গিনেজের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে মূল্যবান চিড়িয়াখানার প্রাণী আরেকটি। যেটি বন্য প্রাণীর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে মূল্যবান হতে পারে, সেটি হলো জায়ান্ট পান্ডা। এর কারণ বিশ্বের সব পান্ডার মালিকানা চীনের হাতে। বিশ্বের অনেক চিড়িয়াখানাকে- বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চিড়িয়াখানাগুলো- পান্ডা রাখার খরচ বাবদ চীনকে প্রতিবছর মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয়, যা বছরে ১০ লাখ ডলার পর্যন্তও হয়ে থাকে।

আর পান্ডার বাচ্চা হলে চীনকে এককালীন ছয় লাখ ডলার দিতে হয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের। সুতরাং সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণীর তালিকায় পান্ডা, হাতি, তিমি বা ঘোড়ার মতো আরো অনেক প্রাণী যেমন রয়েছে, তেমনি বিগ ডেইভের মতো হাঁসও রয়েছে। প্রাকৃতিক কারণে মূল্যবান না হলেও সবচেয়ে বেশি দামের প্রাণীর তালিকায় ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে এসব।

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ


সাইফউদ্দিনের বিশ্বকাপ শেষ, দলে ফিরলেন রুবেল (২৪১৭৬)প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর (১৭৪০৭)কাঁচপুরের বিশাল কারখানা বন্ধের পেছনে কারণ কী? (১৪৪৮৪)কেন ওভারটোন সেতুতে আত্মহত্যা করে কুকুররা (১৩৬২১)স্ত্রীকে বিক্রি করে স্মার্টফোন কিনল নাবালক স্বামী! (১২৫৩৮)পাকিস্তান জেতায় লাভ ভারতীয়দের! (১১৩৩৩)ওয়াকার ইউনিসের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার (৭৯৫৪)নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়ে ভারত আরো চাপে! (৭৬৭৪)ভারতে ফের ডুবোজাহাজের তথ্যপাচার, ৩ নৌ-কর্মকর্তা গ্রেফতার (৬৭৩৯)নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন : ডিকসন (৬৬৬৪)