১৮ অক্টোবর ২০২১
`

মানুষের মতোই বুদ্ধিমান হাতি : কে কার থেকে শিখেছে?

-

চীনে এক পাল হাতির ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার ঘটনায় এই বন্যপ্রাণীটির স্বভাব, বুদ্ধি ও আচার-আচরণের বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের কোথাও কোনো হাতির দল এতো লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছে বলে আগে কখনো জানা যায়নি। এই হাতির পালটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে, চীনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যে জঙ্গলে তারা বসবাস করতো সেখান থেকে তারা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। এই সময়ে দেশটির বেশ কিছু গ্রাম, নগর ও শহরের মধ্যে দিয়ে এরা হেঁটে গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কেন ও কীভাবে তারা পর্যটকের মতো ধীরে ধীরে এতো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিল তার উত্তর সঠিকভাবে দেয়া সম্ভব নয়। তবে তারা বলছেন, হাতিও মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণী। মানুষ আর হাতি কে কার থেকে এই জ্ঞান শিখেছে এই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে অনেকের মাঝে।

কয়েক বছর আগে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্য থেকে দু’টি হাতি হাঁটতে হাঁটতে পদ্মা নদী পার হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাগেরহাটে চলে এসেছিল। ভারতীয় কর্মকর্তারা তখন বাংলাদেশে এসে হাতি দু’টি অচেতন করে ট্রাকে তুলে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়।

বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, কোনো বাধা তাদের আটকাতে পারল না। আনমনে হাঁটতে হাঁটতে এতোটা পথ পাড়ি দিয়ে তারা এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলে এলো- এটাকে আমরা পর্যটন বলবো নাকি অন্য কিছু বলবো, বলা কঠিন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের মধ্যে যা আছে সেটা প্রাণীদের মধ্যেও থাকতে পারে। আর হাতিরা অনেকটা মানুষের মতোই আচরণ করে থাকে। মানুষের মতো হাতিও সামাজিক জীব। আমাদের সমাজে ও ব্যক্তি জীবনে যা কিছু ঘটে, হাতির সমাজে ও জীবনেও তার প্রায় প্রতিটি ঘটনাই ঘটে। হাতিও দলবদ্ধ প্রাণী। এখন বিষয়টা হচ্ছে আমরা হাতির কাছ থেকে শিখেছি না হাতি আমাদের কাছ থেকে শিখেছে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ নিশ্চয়ই হাতির কাছ থেকে শিখেছে। কারণ হাতি আমাদের কয়েক কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এসেছে। হাতি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সংবেদনশীল প্রাণী।

অ্যারিস্টটল একবার বলেছিলেন, হাতি হচ্ছে সেই প্রাণী যে বুদ্ধির দীপ্তি ও স্মরণশক্তির দিক থেকে অন্য সকলকে অতিক্রম করেছে।

হাতি স্থল প্রাণীদের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। তাদের মস্তিষ্কও সবচেয়ে বড়। মানুষের যতো নিউরন আছে তার চেয়েও তিনগুণ বেশি আছে হাতির।

ভারতে দেখা গেছে, হাতি আটকাতে ইলকেট্রিক বেড়া দেয়ার পর হাতিরা প্রথমে তার ওপরে গাছ ফেলে সেখান দিয়ে রাস্তা তৈরি করেছে। এরপর ওই পথ দিয়ে চলাচল করেছে। ড্রাম পটকা ফোটালে কিছুদিন পর ওরা বুঝে ফেলে যে ওদের ভয় দেখানোর জন্য এসব ফোটানো হচ্ছে। বিশ্বের অনেক চিড়িয়াখানাতে গেলেও সেখানে এখন হাতিদের ফুটবল খেলতে দেখা যায়। অনেক গ্যালারিতে হাতির ছবি আঁকাও সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। এরা নানা ধরনের হাতিয়ারও ব্যবহার করতে পারে। এদের স্মৃতিশক্তি প্রখর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাতির এই বুদ্ধি কতখানি- মানুষ হয়তো সেটা পরিমাপ করতে পারেনি। তাদের অধিকার সম্পর্কেও মানুষ সচেতন হয়নি। আর এ কারণেই কখনো কখনো হাতির সাথে মানুষের সংঘর্ষ হয়ে থাকে।

বুদ্ধির পাশাপাশি হাতির মানসিক শক্তিও উল্লেখ করার মতো। মানুষের মতো তাদের জীবনেও আছে হাসি কান্না। এরা অনুকরণপ্রিয়। মানুষের মতো এরাও অনুকরণ করতে পারে। অন্যদের কাছ থেকেও বহু বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে।

সম্প্রতি ভারতে হাতির এরকম একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাচ্চা হাতি চাপকল চেপে চেপে পানি খাচ্ছে। হাতি পরোপকারী একটি প্রাণী। এদের ভেতরে একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করার আগ্রহ অত্যন্ত প্রবল। এদের স্মরণশক্তিও খুব প্রখর।

বিশ্বখ্যাত প্রাণীবিজ্ঞানী ইয়েন ডগলাস হ্যামিলটন হাতির ওপর গবেষণার জন্যে সুপরিচিত। হাতি সংরক্ষণে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। তার বিবরণে হাতির স্মরণশক্তির বিষয়ে কিছু ধারণা পাওয়া যায়।

দেখা গেছে, ডগলাস হ্যামিলটন যেসব বুনো হাতি নিয়ে কাজ করতেন এরা হয়তো কখনো তেড়ে গিয়ে মানুষকে আহত করেছে। কিন্তু হ্যামিলটনের সাথে তাদের ঠিকই বন্ধুত্ব হয়েছে। তাদের সাথে তিনি ছবি তুলছেন।

হ্যামিলটন যখন বিয়ে করলেন তখন তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই হাতির সাথে ছবি তুলেছেন। পরে যখন তাদের সন্তান হলো তাদের সাথেও ছবি তোলা হয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানরা যে ডগলাস হ্যামিলটনের পরিবারেরই সদস্য হাতিরা তাও বুঝতে পারছে।

হাতির পারিবারিক বন্ধনের উদাহরণ হতে পারে কেনিয়ার একটি ঘটনা। ওই দেশের ন্যাশনাল পার্কে শিকারীরা হাতির একটি পরিবারের দুই সদস্যকে গুলি করলে একটি মারা যায়। অন্যটি গুলিবিদ্ধ হয়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।

অন্য হাতিরা তখন তার পাশে এসে দাঁড়ায়। এরা আহত হাতিটিকে সোজা দাঁড় করিয়ে রাখতে সাহায্য করে। কিছুক্ষণ পর হাতিটি মাটিতে পড়ে যায়। তখন ওই হাতির মা ও আরো কয়েক সহযোগী মিলে ওকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। এটা করতে গিয়ে মা হাতিটির একটি দাঁত ভেঙে যায়।

অন্য হাতিরা তখন আশপাশের এলাকা থেকে ঘাস লতাপাতা সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। তারা মনে করে এসব খাওয়ালে হয়তো মৃত হাতিটি জীবন ফিরে পাবে। এখানেই শেষ নয়। হাতিটি মারা যাওয়ার পর এরা সবাই মিলে তাকে সমাহিত করে। সমাহিত করে ওরা সেখানে রাত কাটায়। পরদিন সেখান থেকে চলে যায়। মা হাতিটি যায় সবার পরে।

অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, কোনো হাতি মারা যাওয়ার পর অন্য হাতিরা মানুষের মতোই শোক প্রকাশ করে। এদের একজন তখন শব্দ করে শোক জানায়। বাকিরা নিরবে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার আনন্দ উৎসবেও এরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ‘আমাদের বাচ্চারা যেমন করে, হাতির বাচ্চারাও কিন্তু পানি নিয়ে খেলা করে। দেখবেন এরা পানি নিয়ে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছে।

অবশ্য বিভিন্ন কারণে বর্তমানে পৃথিবীতে এই হাতির সংখ্যা কমে আসছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, ১০০ বছর আগে আফ্রিকাতে হাতির সংখ্যা ছিল ১০ কোটি। এশিয়াতে ছিল এক লাখ। এখন আফ্রিকাতে কমে দাঁড়িয়েছে চার লাখের কিছু বেশি। আর এশিয়াতে ৪০ হাজার।

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ


মেয়ের চিকিৎসায় ১০ দিন ধরে ঢাকার হাসপাতালে থেকেও মন্দির ভাঙার আসামি (১২৯০৫)‘বাতিল হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’ (১২২০৬)প্রধানমন্ত্রী মোদি কি আগামী নির্বাচনে হেরে যাচ্ছেন বলে এখনই টের পেয়েছেন (৯৫৬৯)কাশ্মিরে নতুন করে উত্তেজনা ভারতের তালেবানভীতি থেকে? কেন সেই ভীতি? (৯৪১৪)কাশ্মিরে এক অভিযানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয় সেনা নিহত (৮০৩৮)৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতেই হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী (৬৬০০)সঙ্কটের পথে রাজনীতি (৫৯৭৭)গ্রাহকদের উদ্দেশে কারাগার থেকে যা বললেন ইভ্যালির রাসেল (৪৮৯৫)পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি পুনর্নির্ধারণ (৪৮৬২)কিছু ‘বিভ্রান্তিকর খবরের’ পর বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে ভারত (৪৮২৯)