২৯ মার্চ ২০২০

বিনার নতুন মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম

-

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী উদ্ভিদ প্রজননবিদ কৃষিবিদ ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম শুক্রবার বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক পদে নিযুক্ত হয়েছেন।

এর আগে তিনি বিনা’র পরিচালক (প্রশাসন ও সাপোর্ট সার্ভিস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিনা’র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রাম ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৃত্তি নিয়ে ফিলিপাইনের লস ব্যানস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মলিকুলার জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন। পরে তিনি বিশ্ব ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে এনএটিপি প্রকল্পের বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে মলিকুলার জেনেটিক্স বিষয়ে পোস্ট-ডক্টরাল ডিগ্রী সম্পন্ন করেন।

তিনি টাংগাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে এসএসসি, নটরডেম কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণীতে এইচএসসি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক এবং জেনেটিক্স ও প্লান্ট ব্রিডিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. মির্জা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্যে লবণাক্ততা সহিষ্ণু বিনা ধান-৮, বিনা ধান-১০, বন্যাকবলিত এলাকায় জন্যে জলমগ্নতা সহিষ্ণু বিনা ধান-১১ ও বিনা ধান-১২, সার ও পানি সাশ্রয়ী উচ্চ ফলনশীল জাত বিনা ধান-১৭ (গ্রীন সুপার রাইস) সহ অন্যান্য ফসলের মোট ২২টি উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন করেছেন। তার অসামান্য অবদানের জন্যে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের এফএও-আইএএফএ অস্ট্রিয়া থেকে আউটস্ট্যান্ডিং এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার কর্তৃক সুপ্রিম সিড স্বর্ণপদক, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস-এর অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে লবণ ও বন্যাসহিষ্ণু ধান উদ্ভাবনে অনন্য অবদান রাখায় ভারতের নয়াদিল্লীতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্টসহ সাতটি পদকে ভূষিত হন।

তিনি বিনায় বায়োটেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ, সভা ও প্রকল্পের গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্কসহ ১৫টি দেশ সফর করেন। তিনি জাতিসঙ্ঘের আইএইএ’র অধীনে শ্রীলংকা, মিয়ানমার ও সিয়েরা লিওনে পরমাণু কৃষি গবেষণায় কনসালট্যান্ট বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।

এছাড়া তিনি বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএস ও পিএইচডি কোর্সে শিক্ষার্থীদের গবেষণা তত্ত্ববাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে ও বিদেশে স্বীকৃত ১৪১টি জার্নালে তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। লবণাক্ততাসহিষ্ণু ফসলের মলিকুলার ও ফিজওলজিক্যাল মেকানিজম বিষয়ে টেইলর অ্যান্ড প্রান্সিস-এ একটি পুস্তকের অধ্যায় প্রকাশ করেছেন। তিনি বহু আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


আরো সংবাদ