২০ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

নোবেলের সাথে দেখা ও কথা হয়েছে : সালসাবিল


‘আমার ও নোবেলের দেখা হয়েছে। আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। আমরা নিজেদের মধ্যে কথা না বলে অনলাইনে কাদা ছোড়াছুড়ি করছিলাম। এটা আসলে ঠিক হয়নি।’ বলছিলেন কণ্ঠশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেলকে তালাকের নোটিশ দেয়া স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিল ওরফে সালসাবিল মাহমুদ।

বুধবার সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সালসাবিল এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘নোবেলের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। নোবেল ক্ষমা চেয়েছে। নিজেকে সংশোধনের জন্য দু’মাস সময় চেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নোবেল সংশোধন হলে একসাথে আবার সংসার হবে। কিন্তু এর মধ্যে নিজেকে শোধরাতে না পারলে ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যাবে।’

‘পাত্রীচাই’ শুক্রবার রাতে এমন একটি পোস্ট দিয়েছিলেন মাঈনুল আহসান নোবেল। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সালসাবিল বলেন, এটা দেখা হওয়ার আগে। এখন ওইসব পোস্ট সরিয়ে নিয়েছে নোবেল।

নোবেলের সাথে বিয়ের প্রশ্নে তিনি বলেন, বিয়ের আগে দুই থেকে তিন মাস আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ফোনে কথা হতো। তখন তো ভালোই দেখেছি।

সম্পর্কের অবনতির প্রসঙ্গে সালসাবিল বলেন, যখন দেখলাম ও (নোবেল) ড্রাগ (মাদক) নিচ্ছে। এর ওপর ওর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ওর ‘তামাশা’ গানটি যখন রিলিজ হয় তখন এটা আমার কাছে ধরা পড়ে।

বিয়ের দেড় বছরের সময় ‘বাবা হতে চলেছি’ বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন নোবেল। কিন্তু ফেসবুক লাইভে এসে এর প্রতিবাদ জানিয়ে সালসাবিল বলেছিলেন, ‘আমি প্রেগনেন্ট নই’। তখন নোবেল বলেছিলেন, সালসাবিল পড়াশুনা ও তার বাবার পরিবারের লোকদের সাথে বেশি সময় কাটায়। এতে স্ত্রী হিসেবে সালসাবিলকে খুব একটা কাছে পাননি তিনি। তাদের সম্পর্কের অবনতির পেছনে এটি কারণ কি-না; এমন প্রশ্নে সালসাবিল বলেন, এর আগে থেকেই আমাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

তবে এ সব কিছুর পরও নতুন করে একসাথে সংসার করার স্বপ্ন দেখছেন সালসাবিল। স্বামী মাঈনুল আহসান নোবেল নিজেকে শোধরে নেবেন। ফিরবেন স্বাভাবিক জীবনে। আবারো দু’জন এক ছাদের নিবে বসবাস করবেন সেই অপেক্ষায় আছেন সালসাবিল।

অবশ্য নোবেলও একই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ‘পাত্রী চাই’, ‘ডিভোর্সড’, ‘আমার জন্য মন্ত্রী-এমপির মেয়েরা অপেক্ষা করছে’, এমন নারীর সাথে তালাক একটি সুসংবাদ’- এমন সব পোস্ট নিজের ভেডিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে এরই মধ্যে মুছে দিয়েছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, ১১ অক্টোবর দেয়া একটি স্ট্যাটাসে নোবেল লিখেছেন, ‘আমার এবং আমার স্ত্রীর মধ্যকার সকল বিবাদ পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হচ্ছে। বিগত কিছু দিনের কাদা ছোড়াছুড়ির জন্য বিনীতভাবে দুঃখিত। বিয়ে একটা পবিত্র প্রথা, অনুগ্রহ করে বেফাস মন্তব্য করে এর পবিত্রতা নষ্ট করবেন না।’

এর আগে ৬ অক্টোবর নোবেলকে স্ত্রী সালসাবিলের পক্ষ থেকে তালাকের নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। ওই দিন স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিলের কাছ থেকে পাওয়া তালাকের নোটিশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সংগীত শিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল বলেন, “এরকম নারীর সাথে ‘তালাক’ একটি সুসংবাদ!”

পরে আরেক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, শেষ পর্যন্ত আমারে মেরে ফেলার প্ল্যান ব্যার্থ হলো! তাই ডিভোর্স লেটার পাঠালেন এই ‘Con-Woman’!!

বিভিন্ন কারণে আলোচিত-সমালোচিত সংগীত শিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেলের সাথে ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর বিয়ে হয় মেহরুবা সালসাবিলের। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি তাদের। দু’ছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নোবেলকে তালাক নোটিশ পাঠিয়েছেন স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিল। গত ১১ সেপ্টেম্বর তালাক নোটিশ পাঠিয়েছেন সালসাবিল। তবে এ পর্যন্ত বিষয়টি মিডিয়ায় আসেনি।

বুধবার দুপুরে হঠাৎ গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান মেহরুবা সালসাবিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নোবেল মানসিকভাবে চরম অসুস্থ, চরম মাদকাসক্ত, নারী-নেশাসহ আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করত। সব কিছুর প্রমাণ আমার কাছে আছে। এসব কারণে তাকে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সালসাবিল আরো বলেন, ‘নোবেলের সাথে সংসার করা সম্ভব নয়। তাই তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছি। এখন যদি সে স্বাক্ষর করে দেয় তাহলে ডিভোর্স হয়ে যাবে। আর সিগনেচার না করলে তিন মাস পর অটোমেটিক ডিভোর্স কার্যকর হবে।’

এ দিকে স্ত্রী সালসাবিল যখন গণমাধ্যমে এই তথ্য দিয়েছেন ঠিক তখনই নোবেল নিজের ফেসবুক পেজে বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দেন। ফেসুবকে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, ‘ডিভোর্সড’। তাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা।

পরে তিনি গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি তালাকনামা পেয়েছি। কিন্তু স্বাক্ষর করিনি, করব না। এটা তিন মাস পর নিজ থেকেই কার্যকর হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই।’

অবস্থা দৃষ্টে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, মানসিকভাবে দু’জনেই বিচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান দিয়েছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচ্ছেদ কার্যকর হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু এর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই দু’জনে ফের একসাথে থাকার ইঙ্গিত দিলেন। অবশ্য সালসাবিল বলেছেন, এর আগেও নোবেল একাধিকবার নিজেকে শোধরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তা আর হয়নি। তবুও শেষবারের মতো স্বামীর সংশোধনের অপেক্ষায় আছেন স্ত্রী সালসাবিল।



আরো সংবাদ


স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেরে আখেরে ‘লাভ’ হলো বাংলাদেশের? (৪৫০০৪)আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন, বিএনপির উদ্দেশে মুরাদ হাসান (২৬১৯৫)বিয়ের প্রলোভনে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে ধর্ষণ, আসামি গ্রেফতার (২৩৩১৩)ফুটপাতের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খেয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু (১৬৫৫২)কাবার অবমাননায় পোস্ট, রংপুরে কিশোর পরিতোষ গ্রেফতার (১৬৩৭৬)পৃথিবী পাঁচ শক্তির চেয়েও বড় : এরদোগান (১০০১২)অগ্নিসংযোগ নয়, পরিমলের ঘর পুড়েছে কলা পাকানোর আগুনে (৯৮১২)আম্পায়ার দিলেন আউট, হেটমায়ারকে ফিরিয়ে নিলেন বাবর আজম (৯৬৫২)কুমিল্লার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শনাক্ত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (৭২৫৩)সমুদ্রসীমায় ভারতীয় সাবমেরিন আটকালো পাকিস্তানি নৌবাহিনী (৫৯২৮)