০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

রাজশাহী মহানগরীর ৩ ওয়ার্ডে ৯ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে

-

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) তিনটি ওয়ার্ডের ৯ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগরীর নির্বাচিত তিনটি ওয়ার্ডের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টি মূল্যায়ন বিষয়ক কার্যক্রমের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের এই তথ্য উঠে এসেছে। দুপুরে নগর ভবনের সরিৎ দত্তগুপ্ত সভাকক্ষে এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ইউএস সিডিসি’র অর্থায়নে ও সেভ দ্য চিলড্রেন, বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় এই পুষ্টি মূল্যায়ন বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার পর মঙ্গলবার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন- রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে শিশুদের পুষ্টি মূল্যায়ন বিষয়ক কার্যক্রমের ফলাফল উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেন ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জনস্বাস্থ্য রোগতত্ত্ববিদ ডা: তামান্না বাসার।
ডা: তামান্না বাসার জানান, দেশের সব সিটি করপোরেশনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী সিটি করপেরেশনের ৭, ১৫ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ‘অপুষ্টি যাচাইকরণ ও পুষ্টি প্যাক বিতরণ কর্মসূচি’ বিষয়ক ৫২ দিনব্যাপী অপুষ্টি যাচাইকরণ এবং পুষ্টি প্যাক বিতরণ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। ক্যাম্পেইনের আওতায় ২৪ এপ্রিল থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ওই তিনটি ওয়ার্ডে অপুষ্টি যাচাইকরণ, পুষ্টি প্যাক বিতরণ, জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পোস্টার ও লিফলেট বিলি করা হয়। তিনি আরো জানান, ক্যাম্পেইন থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই তিন ওয়ার্ডের স্লাম এরিয়ায় মোট ৩ হাজার ১৮৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। সেখানে ছেলে শিশু মেয়ে শিশুর চেয়ে বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে।
কর্মসূচির আওতায় মহানগরীর তিন হাজার ১৮৪ জন শিশুর সঠিক ওজন ও উচ্চতা যাচাই, অপুষ্টি কী, পুরিপূরক খাবার এবং কোন বয়সে কী পরিমাণ খাবার খেতে হবে সে সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং অপুষ্টি আক্রান্ত শিশুদের মাঝে ২৪ হাজার ৭৫০ পুষ্টি প্যাক সরবরাহ করা হয়। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে চয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুদের বয়সের সাথে বেড়ে ওঠা স্ক্রিনিং এবং পুষ্টি কার্ড বিতরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- সিটি হাসপাতালের (আবাসিক) মেডিক্যাল অফিসার ডা: তারিকুল ইসলাম বনি, মেডিক্যাল অফিসার ডা: আমিনা ফেরদৌস ও ভেটেরিনারি সার্জন ড. ফরহাদ উদ্দিন।

 


আরো সংবাদ


premium cement