২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ২ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৩

-

আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন দিতো চক্রটি। বিজ্ঞাপন দেখে চাকরি প্রার্থীরা যোগাযোগ করলেই শুরু হতো তাদের প্রতারণা। ভুঁইফোড় কোম্পানির নামে নিয়োগ দিয়ে জামানত বা বিভিন্ন সরঞ্জামাদি পাঠানোর লোভ দেখিয়ে দফায় দফায় হাতিয়ে নেয়া হতো বিপুল অঙ্কের টাকা।
এমনই একদল প্রতারক রাজধানীর উত্তরায় নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নামে একটি অফিস খুলে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। অবশেষে দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃতদের নাম- মুজিবুর রহমান, লাবনী আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস ময়না। এ সময় ১৪টি মোবাইল, ৬০টি বিভিন্ন কোম্পানির সিম কার্ড, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া ৪০টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ১৪৮টি বায়োডাটা ও ৩০টির বেশি ভুঁইফোড় কোম্পানি ও এনজিওর নামে করা নিয়োগপত্র ও স্ট্যাম্প সিল জব্দ করা হয় বলে দাবি করেছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, এ চক্রের টার্গেট এসএসসি-এইচএসসি পাস বেকার যুবক-যুবতী। প্রতারক চক্রটির মূল হোতা মুজিবুর রহমান। তিনি ২০১৮ সালে একটি কোম্পানিতে চাকরি নেন। সেখানে তার বসরা এভাবে প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। ওই কোম্পানি থেকে বেরিয়ে নিজেও বেশ কয়েক বছর ধরে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের নামে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। গত ৩ বছরে এভাবে প্রতারণা করে বিকাশ, নগদের মাধ্যমে এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। মুজিবুর প্রতারণার অভিযোগে একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জামিনে বেরিয়ে ফের এসব প্রতারণায় জড়াচ্ছে।
গতকাল বুধবার সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার মো: রেজাউল মাসুদ বলেন, ভুক্তভোগী এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে সিআইডি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী ছাড়াও সারা দেশে অসংখ্য বেকার চাকরিপ্রার্থী এ চক্রের প্রতারণা ফাঁদে পড়েছে। পরবর্তীতে সাইবার মনিটরিং টিমের একটি দল মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রতারণা আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, এ চক্রটির টার্গেট এসএসসি-এইচএসসি পাস বেকার যুবক-যুবতী। তারা উত্তরায় নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নামে একটি অফিস খুলে বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিত। এ ছাড়াও বিভিন্ন ভুঁইফোড় এনজিওতে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিত। বিজ্ঞপ্তিতে দেখে চাকরিপ্রত্যাশীরা আবেদন করলেই চক্রটির প্রতারণা শুরু হয়। প্রথমে এক নারীকে দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশিকে ফোন দিয়ে বলা হয়, আপনার সিভি দেখে আপনাকে সিলেক্ট করা হয়েছে। এরপর ভুয়া কনফারমেশন লেটারও দেয়া হতো। পরবর্তীতে অন্য একজন ফোন দিয়ে অফিস থেকে কখনো ল্যাপটপ, কখনো মোটরসাইকেল দেয়ার লোভ দেখিয়ে জামানত বাবদ চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দিত।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মজিবুর রহমান জানিয়েছে, সে গত ৫ বছরে প্রায় ২৫ হাজার সিভি/ বায়োডাটা সংগ্রহ করেছে। এসব বায়োডাটা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে গত তিন বছরে প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা চাইলে বুঝতে হবে চক্রটি প্রতারক। চাকরির বিজ্ঞপ্তি পেলেই যাচাই-বাছাই না করে আবেদন করা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে সবাই সচেতন থাকলে এ জাতীয় প্রতারণা কমে আসবে।


আরো সংবাদ


premium cement