২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ২ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

স্ত্রী ও শ্যালিকাকে ভারতে পাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

-

স্ত্রী ও শ্যালিকাকে ভারতে পাচার করে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে গাজীপুরের ইউসুফ নামে এক যুবক। যৌন নির্যাতনের শিকার দুই বোন পরে পল্লী থেকে পালিয়ে ভারতীয় পুলিশের সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরত আসেন তারা।
তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতে নারী পাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃতদের নাম- রানা আহমেদ, সুজন মিয়া, সাহাবুদ্দীন ও নাইমুর রহমান ওরফে শামীম। তারা নারীদের সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে সেখানকার যৌনপল্লীতে বিক্রি করত।
গতকাল বুধবার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জরিনা (ছদ্মনাম) ও শিউলি (ছদ্মনাম) নামের দুই বোনকে বেশি বেতনের প্ররোচনায় ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ২০২১ সালের ৪ মে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করে। ভারতে অবস্থানরত সহযোগীদের সহায়তায় দুই বোনকে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়। সেখানে দুই বোন যৌন নির্যাতনের শিকার হন। পরে যৌনপল্লী থেকে পালিয়ে ভারতীয় পুলিশের সহায়তায় এই দুই বোন এ বছরের ২২ মার্চ বাংলাদেশে ফেরত আসেন ও আদালতে জবানবন্দী দেন।
সিআইডি জানায়, পাচার হওয়া দুইজনের একজন ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির স্ত্রী ও অপরজন শ্যালিকা। ইউসুফই তার স্ত্রী ও শ্যালিকাকে দালালের কাছে তুলে দেয়। এ ঘটনায় গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই দুই নারীর বাবা। এ ঘটনায় ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়। ইউসুফ এখন কারাগারে। ঘটনার পরপরই মামলাটি সিআইডির দায়িত্বে নেয়।
নজরুল ইসলাম বলেন, ইউসুফের স্বীকোরোক্তিতে ছয়জনের নাম উঠে আসে। তার মধ্যে দুইজন রানা ও সুজন। গ্রেফতার অন্য দুইজন রানা ও সুজনের সহযোগী। এ চক্রটি চারটি ধাপে গ্রুপ-ভিক্তিক কাজ করে থাকে। একটি গ্রুপ ঢাকা-গাজীপুর থেকে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দিয়ে নারীদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। অন্য গ্রুপটি দায়িত্ব নিয়ে সীমান্ত থেকে ওপারে পাঠায়। সেখান থেকে একটি গ্রুপ তাদের রিসিভ করে। এরপর তাদেরকে বিক্রি করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, সংসার করা ইউসুফের উদ্দেশ্য ছিল না। ভারতে পাচার করার জন্যই সে বিয়ে করে।
সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, এ চক্রটি শুরুতে সীমান্ত এলাকায় গরু পাচার চক্রের সাথে জড়িত ছিল। পরে গত দুই তিন বছর ধরে মানবপাচারে জড়িয়ে পড়ে। পাচারকারীরা চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রলোভনে নারীদের পাচার করে আসছে। এ চক্রের হাতে ২০ থেকে ২৫ জন নারী ভারতে পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা।


আরো সংবাদ


premium cement