১৩ আগস্ট ২০২২
`

খুলনায় মুনজির মাস্টার হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন

-

খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার মাতমডাঙ্গা গ্রামের আলোচিত সরদার মুনজির আহমেদ মাস্টার হত্যা মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন। মুনজির মাস্টার মাতমডাঙ্গা শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় এজিএম যুব সঙ্ঘের সদস্য ছিলেন।

অপর দিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় ওই দুইজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৭ বছর পর আলোচিত এ মামলার রায় দেয়া হলো।

এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয় আনোয়ার হোসেন ও আশরাফ আলীর। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপরথদিকে এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ১২ জন আসামির মধ্যে তিনজন বিচার চলাকালে ক্রসফায়ারে নিহত হয়। একজনকে রাজনৈতিক মামলা বিবেচনায় অব্যাহতি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া এ মামলার ছয়জন আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

এ মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চরমপন্থী পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা মুনজির মাস্টারের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তাকে হত্যা করার হুমকি দেয়। ২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মুনজির মাতমডাঙ্গা যুব সঙ্ঘের ভেতরে ছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে কয়েকজন সন্ত্রাসী যুব সঙ্ঘের ভেতরে প্রবেশ করে বোমা মারে। এতে মুনজির মাস্টার গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। তবে মারা যাওয়ার আগে তিনি বড় ভাই বেনজীর আহমেদের কাছে সব ঘটনার বিবরণ বলে যান। এ হত্যাকাণ্ডের পরের দিন বেনজীর আহমেদ বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে খানজাহান আলী থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। এ দু’টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন খানজাহান আলী থানার এসআই মো: ফারুকুল ইসলাম। তিনি একই বছরের ১২ ডিসেম্বর বিস্ফোরক ও ২০০৬ সালের ৩০ জুন হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে দাউদ, মঈন ও নেয়ামুল ইসলাম কুটি ক্রসফায়ারে নিহত হয়। অপর দিকে এ মামলার অপর আসামি আরিফুর রহমানকে রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

 


আরো সংবাদ


premium cement