০৯ ডিসেম্বর ২০২১
`

সালথায় ঘোষণা দিয়ে আ’লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ

এক যুবক নিহত : বাড়িঘর ভাঙচুর
-

ফরিদপুরের সালথায় ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে মারিজ সিকদার (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এতে উভয় প্রার্থীর আরো অন্তত ২০ সমর্থক আহত হয়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ৫০টি বসতঘর।
গতকাল শনিবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শর্টগানের কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে গত ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী আব্দুর বর মোল্লা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন আওয়ামী লীগ সমর্থক গ্রাম্য মাতবর মো: রফিক মোল্লা ও নুরজ্জামান টুকু ঠাকুর। এক মাস আগে নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে রফিকের কাছ থেকে আলাদা হয়ে টুকু ঠাকুর নৌকার মনোনীত প্রার্থী রব মোল্লা ও তার সমর্থক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীর মিয়ার দলে যোগ দেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকার দলের প্রার্থী রব মোল্লার সমর্থক আলমগীর মিয়া ও টুকু ঠাকুরের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকের বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে উত্তেজনা শুরু হয়। সালথা থানা পুলিশের কঠোর পদক্ষেপে শুক্রবার রাতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
তবে রাতেই বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সকালে সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নিতে ঘোষণা দেয় উভয় দলের লোকজন।
শনিবার সকাল থেকে খারদিয়া এলাকায় উভয় প্রার্থীর হাজারো সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায় বেলা ২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সংঘর্ষ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
এতে মারিজ সিকদার, নাসির মোল্লা, রহিম মণ্ডল, রশিদ শেখ, সাকির মোল্লা ও টেপু শেখসহ উভয় প্রার্থীর অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিকের সমর্থক মারিজ সিকদার মারা যান। তিনি খারদিয়া গ্রামের সওরাফ সিকদারের ছেলে।
এদিকে মারিজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যাওয়া পর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নৌকার মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের অন্তত ৫০টি বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করার খবর পাওয়া গেছে।


আরো সংবাদ