০৩ আগস্ট ২০২১
`
সংবাদ সম্মেলনে ৮ দাবি

৭৫ ভাগ পৌরসভা কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে না

-

আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই শতভাগ বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করলে আগামী ২৫ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করা হবে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এ আলটিমেটাম দেন। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন পরিষদের আদলে সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল আলীম মোল্লা। তিনি বলেন, পৌর কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে পরিবারপরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেশের ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ পৌরসভায় দুই থেকে ৭০ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এ পর্যন্ত ১০২৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। তাছাড়া ১১ হাজার ৬৭৫ জন পৌর কর্মচারীর সর্বমোট প্রায় ৮৭৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। তার উপর নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নতুন মেয়ররা স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচিত হয়েই পুরাতন মাস্টাররোল কর্মচারীদের ছাঁটাই করে অর্থের বিনিময়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া এবং কর্মকর্তাদের জিম্মি করে বেতন বকেয়া রেখে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে রাজস্ব তহবিল হতে বিধি বহির্ভূত ব্যয় করা অধিকাংশ মেয়রের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অপর দিকে বেতন-ভাতা না পেয়েও কর্মচারীদের মানহানিকর অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করছে। তিনি আরো বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেতন-ভাতাহীন কর্মচারীদেরকে অফিস সময় শেষে রিকশা চালিয়ে কিংবা মুদি দোকান দিয়ে পরিবারের খরচ মেটাতে হচ্ছে। আব্দুল আলিম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা উভয়ের কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বাজেটে আলাদা আলাদা বেতন খাত রয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের জন্য যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের বেতন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে গত বছরের মতো মাত্র ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাতীয় বাজেটের পরিমাণ হাজার হাজার কোটি টাকা বাড়লেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে কোনো বরাদ্দ বৃদ্ধি না হওয়ায় এমন বৈষম্য আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বৈষম্যের বিষয়টি ইতঃপূর্বে প্রশাসনের বিভিন্নপর্যায়ে লিখিতভাবে এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দিনের পর দিন আন্দোলন করে জানানো হয়েছে। আন্দোলনের সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তিন মাসের মধ্যে বেতন-ভাতার স্থায়ী সমাধান করবেন বলে আশ^স্ত করেন। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো ফল হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে থেকে হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট পিটিশন ২০১৮ দাখিল করা হয়। আদালত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে প্রদানের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ এ পর্যন্ত রায় বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো ১. উচ্চ আদালতের আদেশ দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন, ২. পৌরসভাগুলো আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন না করা পর্যন্ত জাতীয় বাজেটে পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন খাত নম্বর ৩৬৩১১০১ এ আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করে ইউনিয়ন পরিষদের মতো আসছে সংশোধিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করাসহ প্রতি বছর এ বরাদ্দ অব্যাহত রাখতে হবে, ৩. স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নকল্পে সকল বকেয়া বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন ভাতা স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রস্তাবিত ৭৯২ কোটি টাকা বেতন খাতে বরাদ্দ প্রদান করতে হবে, ৪. তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মরহুম জিল্লুর রহমানের ঘোষণা বাস্তবায়নকল্পে কেন্দ্রীয়ভাবে অবসরকালীন ভাতা প্রদান করতে হবে, ৫. সব পৌরসভা বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে রাজস্ব খাত হতে দরপত্র আহ্বান বা অন্যান্য ব্যয় যাতে করতে না পারে সে জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের তদারকি জোরদার করতে হবে, ৬. রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য এ সংক্রান্ত কমিটিতে জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে, ৭. স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়ে সকল পৌরসভাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা করে তদারকি জোরদার করতে হবে এবং ৮. সকল প্রকার নিয়োগে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি করা। যাতে কর্মকর্তারা অনৈতিক কার্যকলাপে বাধা প্রদান করলে হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য কর্মকর্তাদের যোগদান গ্রহণ ও অবমুক্তির বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিশেনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ঢাকা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ম ই তুষার, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা সরকার দলিল উদ্দিন, সহসভপতি আখতার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন দত্ত, শফিকুল ইসলাম আগুন, রোকসানা পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী, অর্থ সম্পাদক মজিবুর রহমান, মহিলা সম্পাদক সাজেদা আক্তার, চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি আবুল কালাম, ময়মনসিংহ বিভাগের সভাপতি কামরুল হক, সেক্রেটারি ইসহাক প্রমুখ।

 



আরো সংবাদ