১৯ এপ্রিল ২০২১
`
উজিরপুরে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন

স্ত্রীর কারণে ফেঁসে গেলেন ডা: রবিন!

-

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) অর্থোপেডিক-ট্রমা সার্জন ডা: সি এইচ রবিন চন্দ্র হালদার এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সুখ্যাতির সাথে নিজ উপজেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। তবে সম্প্রতি স্ত্রী রাখি সাহার অপকর্মের কারণে শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর একটি ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি হয়েছেন তিনি।
চিকিৎসক রবিনের এলাকার লোকজনের দাবি, রবিনের সুনাম-সুখ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরেই গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। শিশু নির্যাতনের মামলায় তাকে আসামি করা সেই ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। তারা রবিনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার স্ত্রী রাখি সাহাকে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি গ্রামের প্রতিবন্ধী ননী বাড়ৈর মেয়ে নিপা বাড়ৈকে (১১) স্থানীয় বাসিন্দা বাসুদেব হালদারের মাধ্যমে ছয় মাস আগে ডা: সি এইচ রবিন চন্দ্র হালদারের রাজধানীর শ্যামলীর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নেয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ডা: রবিনের অনুপস্থিতিতে স্ত্রী রাখি সাহা বিভিন্ন সময়ে শিশুটির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনে শিশুটির দুই হাত, হাতের আঙুল, মাথা, গলা, মুখমণ্ডল ও পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ক্ষতের সৃষ্টি হয়। সবশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একটি কাজে সামান্য ভুল হওয়ায় রাখি সাহা ধারালো চাকু দিয়ে মাথায় কোপ দিলে নিপা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থ হলে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিপাকে গোপনে ডা: রবিনের চেম্বারের সহযোগী বাসু হালদারকে দিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন রাখি দাস। তবে বাসু হালদার পরিবারের কাছে পৌঁছে না দিয়ে নিপাকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানের সামনে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিলে ঘটনা সম্পর্কে নিপা তার স্বজনদের সবকিছু জানায়। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ নিপা বাড়ৈকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় কিছু লোক হুমকি দিলে হাসপাতাল থেকে নিপাকে নিয়ে পালিয়ে যান স্বজনরা। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উজিরপুর থানা পুলিশ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নির্যাতিতা নিপাকে আগৈলঝাড়া উপজেলার আশকর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে। এরপর নির্যাতনের শিকার শিশু নিপার চাচা তপন বাড়ৈ বাদি হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নির্যাতনকারী রাখি সাহাকে প্রধান আসামি এবং তার স্বামী ডা: সি এইচ রবিনসহ তার চেম্বারের সহকারী বাসুদেব হালদারকে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।



আরো সংবাদ