৩০ নভেম্বর ২০২০

রাজধানীতে প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ

-

ঢাকার নূরজাহান রোডের মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, দুর্নীতিসহ স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা। অভিভাবকদেরও দাবি প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়মের কারণে ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তি সংখ্যাও কয়েক বছরের ব্যবধানে অর্ধেক কমে গেছে। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা এ বিষয়ে ১৫টি লিখিত অভিযোগ সম্প্রতি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করেছেন।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী জানান, বিদ্যালয়ে যোগদানের এক বছরের মধ্যেই প্রধান শিক্ষক দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করে নিম্নমানের বই পাঠ্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি জানাজানির পর টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের মাঠ ও অডিটোরিয়াম ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের পুরাতন আসবাবপত্র এমনকি গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ছয়তলা একটি ভবনে নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহের সুযোগ দিয়ে অর্থ ও বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ দিকে প্রধান শিক্ষক তার এসব অপকর্ম ঢাকতে অযথাই অন্য শিক্ষকদের শোকজ দিয়ে থাকেন। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের যোগাদানের পর থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষকদেরও মিটিংয়ে রাখতে চাননি। এমনকি সর্বশেষ সেপ্টেম্বরেও তাদের দুটো মিটিংয়ে রাখা হয়নি।
এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের সাথেও অকথ্য ভাষায় গালাগালের অভিযোগ রয়েছে। সব সিদ্ধান্ত এককভাবে নেয়াসহ কখনো কখনো চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সামান্য কারণে গায়ে হাত তোলার অভিযোগ রয়েছে।
তবে প্রধান শিক্ষক মো: দেলোয়ার হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার সততায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অন্য শিক্ষকরা ষড়যন্ত্র করছেন। গতকাল নয়া দিগন্তের এই প্রতিবেদককে তিনি আরো জানান, অন্য শিক্ষকদের অনিয়মের কারণে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতেই তিনি কাজ করছেন। তিনি বলেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেয়া হয়ে থাকে তাহলে আমিও তার জবাব লিখিতভাবেই দেবো।


আরো সংবাদ