২৯ অক্টোবর ২০২০

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বেশি করে পরীক্ষা করতে হবে : জাতীয় পরামর্শক কমিটি

-

করোনা সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি রোগী নেই বলে করোনা হাসপাতাল সঙ্কোচনে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছে, করোনা হাসপাতাল পুরোপুরি বন্ধ না করে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যাতে পুনরায় ব্যবহার করা যায় সেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। তারা বলছেন, এখনো আইসোলেশন কেন্দ্রের প্রয়োজন আছে। গত রোববার রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশীদ আলমের সাথে অনলাইন সভায় করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় জাতীয় পরামর্শক কমিটির। পরামর্শক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, আমাদের পার্শ¦বর্তী দেশে সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেশি। আমাদের দেশেও পুনরায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এখনই করণীয় বিষয়ে রোডম্যাপ প্রস্তুত করে সে অনুসারে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয়।
জাতীয় পরামর্শক কমিটি বলছে, বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রীরা এ দেশে প্রতিদিনই আসছেন। এ বিষয়ে ভ্রমণসংক্রান্ত নিয়ম জারি করা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রবেশপথেই প্রতিরোধ জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশাগতদের স্ক্রিনিং, কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে করোনাট্রেসার অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
জাতীয় পরামর্শক কমিটি বলছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমানে পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি, হাসপাতালের সেবার পরিধি ও মানের উন্নয়ন হয়েছে। সরকারের ও বিভিন্ন সংস্থার পদক্ষেপের কারণে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। যেসব দিকে এখনো উন্নয়ন প্রয়োজন সেসব দিকের ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রতিরোধে পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে।
জাতীয় পরামর্শক কমিটি বলেছে, বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন দেশের যোগাযোগ উন্মুক্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও জনসাধারণের মধ্যে শৈথিল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব কারণে আমাদের দেশেও পুনরায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি বলছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে সংক্রমণের হার নিম্নমুখী, যদিও এই হার স্বস্তিকর মাত্রায় এখনো পৌঁছেনি। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় এক্স-রে ও রক্তের কিছু পরীক্ষার ভূমিকা রয়েছে। শহরের হাসপাতালগুলোতে এই ব্যবস্থা থাকলেও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয়ের লক্ষ্যে বর্ধিতহারে টেস্ট করা প্রয়োজন। এ ছাড়া করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে সংক্রমিত ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইসোলেট করতে হবে।
সভায় কোভিড ভ্যাকসিন বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে অলোচনা করা হয়। কোভিড ভ্যাকসিনের টেকনোলজি নিয়ে এসে এ দেশেই উৎপাদন করার সরকারের পরিকল্পনার প্রশংসা করা হয়।
জাতীয় পরামর্শক কমিটি বলছে, লকডাউন জীবিকার সাথে সংঘাতপূর্ণ বিধায় এ মুহূর্তে সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে বারবার হাতধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় মেনে চলাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মানাই করোনা প্রতিরোধের উপায়। এ ব্যাপারে জনসাধারণকে আরো সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সমাজে অনুকরণীয় ব্যক্তিরাই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অথবা ভুলভাবে পালন করছেন।। এতে করে সমাজের কাছে ভুল তথ্য যাচ্ছে। ফলে জনসাধারণ সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

 


আরো সংবাদ