২৯ অক্টোবর ২০২০
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা ও কর্ণফুলীর নাব্য রক্ষায় স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের বিকল্প নেই

-

কর্ণফুলী নদীর বন্দরশাসিত এলাকা হালদা মোহনা থেকে কর্ণফুলী মোহনা পর্যন্ত ১০ মাইল কর্ণফুলী রক্ষায় ২০১৪ সালে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্ল্যান ফর চিটাগাং পোর্ট’ শীর্ষক একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। বিএস জরিপ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর প্রস্থ ঠিক রেখেই সেই পরিকল্পনা করা হয়। বন্দরের স্বাভাবিক গতিশীলতা ও কর্ণফুলীর নাব্য রক্ষায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কর্নফুলীর বন্দর অংশে নদী খনন, শাসন ও উভয় তীরে সীমানা প্রাচীর না দেয়ায় কর্ণফুলীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ধ্বংস হয়েছে।
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানিয়েছে। এতে ২১ দিনব্যাপী কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত ব্রিজ থেকে ফিরিঙ্গিবাজার মনোহরখালী পর্যন্ত কর্ণফুলীর প্রস্থ জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন জরিপ কমিটির আহ্বায়ক আইআইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান, সাদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক প্রকৌশলী এম আলী আশরাফ। ওই জরিপে কর্ণফুলীর দখল ও ভরাট হওয়ার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে বলে দাবি করা হয়।
জরিপে দেখা যায়, কর্ণফুলী ব্রিজ নির্মাণের সময় এডিবি মাস্টার প্ল্যান ও বিএস সিট অনুযায়ী কর্ণফুলীর প্রস্থ ছিল ৮৮৬.১৬ মিটার। কিন্তু বর্তমানে শাহ আমানত সেতুর ভাটির দিকে কর্ণফুলী নদী ভাটার সময় প্রস্থ মাত্র ৪১০ মিটার এবং জোয়ারের সময় চর অতিক্রম করে ৫১০ মিটার পর্যন্ত জোয়ারের পানি আসে।
ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই অংশে কোনো প্রকার নৌযান চলাচল করে না। নদী ভরাট হওয়ায় শাহ আমানত সেতুর মাঝ পিলারের পাশে অঘোষিত একটি যাত্রী পারাপার ঘাট তৈরি করেছে স্থানীয়রা। জোয়ার ভাটার সময় লিংক রোড থেকে অর্র্ধ কিলোমিটার নদীর অংশ হেঁটে যাত্রীরা ব্রিজের নিচে কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে এসে সাম্পানে ওঠে।
এতে বলা হয়, চাক্তাই খালের মুখে এসে বিএস সিট ও এডিপি মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নদীর প্রস্থ ৯৮২ মিটার। বাস্তবে ৫১০ মিটার নদী রয়েছে। এর পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্মিত মেরিনার্স পার্ক এলাকায় কর্ণফুলীর প্রস্থ ৯৮১ মিটার। বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেই অংশে খনন করেছে। খননের পর নদীর প্রস্থ দাঁড়িয়েছে ৮৫০ মিটার। এরপর ফিরিঙ্গিবাজার মোড়ে কর্ণফুলী নদীর প্রস্থ ৯০৪ মিটার। বর্তমানে বন্দর খনন করার পর সেখানে নদী আছে ৭৫০ মিটার। বাকি অংশ গাইড ওয়াল নির্মাণ করে চিরতরে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, কর্ণফুলী ব্রিজের উত্তর অংশে ৪৭৬ মিটার কর্ণফুলী নদী ভরাট হওয়ায় জোয়ার-ভাটার সময় সেখানে ব্যাপক নদীর স্রোত হয়। স্রোতের এই তীব্রতার চাপ কর্ণফুলীর দক্ষিণ প্রান্তে শাহ আমানত ব্রিজের সংযোগ সড়কের বর্ধিত অংশ ও দুই পিলারে পড়ছে, যা শাহ আমানত সেতুর জন্য বিপজ্জনক। এর ফলে বন্যা বা সাইক্লোন হলে শাহ আমানত ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জরিপে বলা হয়, কর্ণফুলী ব্রিজের পশ্চিম পাশে রাজখালী খালের পাশে ভেড়ামার্কেট বস্তি, রাজাখালী ও চাক্তাই খালের সংযোগস্থলে সোনালী মৎস্য আড়ত, চাক্তাই খালের পশ্চিম পাড় থেকে ফিরিঙ্গিবাজার পর্যন্ত মেরিন ফিশারিজ পার্ক সম্পূর্ণ কর্ণফুলী দখল করে গড়ে উঠেছে। এডিবি মাস্টার প্ল্যানে এসব মার্কেটের অস্তিত্ব নেই। সেখানে নদী দেখানো হয়েছে। বন্দরের স্বাভাবিক গতি প্রবাহ, কর্ণফুলী ব্রিজ রক্ষা ও চাক্তাই খাতুনগঞ্জসহ নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়মিত প্লাবন থেকে রক্ষা করতে এবং কর্ণফুলীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রক্ষা করতে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে মেরিন সড়ককে কর্ণফুলীর তীর ধরে তা গাইড ওয়াল তৈরি করা জরুরি।

 


আরো সংবাদ