১১ আগস্ট ২০২০
অনলাইন সেমিনারে বক্তারা

সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকারকারী দাম্ভিক মানুষও আজ তার করুণা চাইছে

-
24tkt

‘কোভিড-১৯ : আর্থ-সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক অনলাইন সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, মহান সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকারকারী দাম্ভিক মানুষটিও আজ সৃষ্টিকর্তার করুণা প্রার্থনা করছে। অণুজীবের আক্রমণে পর্যুদস্ত বিশ্বমোড়লরা আজ সর্বশক্তিমানের ওপর সবকিছু ছেড়ে দিচ্ছে। মহান সৃষ্টিকর্তাকেই তারা শেষ ভরসা হিসেবে মেনে নিচ্ছে। তারা এখন বুঝতে পারছে সর্বশক্তিমানের করুণা ছাড়া বিপদমুক্তির কোনো পথ নেই।
গতকাল সোমবার তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্ট এই অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করে। বাংলাদেশ থেকে ট্রাস্টের সভাপতি প্রফেসর ড. কোরবান আলীর সভাপতিত্বে ও ইউকে থেকে ড. আব্দুস সালাম আজাদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আলোচনা রাখেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন। এরপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো: নিজাম উদ্দীন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মাওলানা যাইনুল আবেদীন বলেন, এমন সর্বব্যাপী মহামারী এর আগে পৃথিবীবাসী দেখেনি। মানবজীবনের সর্ব অঙ্গনে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আর্থ-সামাজিক অঙ্গনে এর প্রভাব যেমন সুদূরপ্রসারী, তেমনি ধর্মীয় জীবনের স্বাভাবিক গতিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ বিপদ নিঃসন্দেহে কারোর জন্য শাস্তি, আবার কারোর জন্য পরীক্ষা। বহু যুগ পরে এবার সীমিত পরিসরে হজের আয়োজন করতে হচ্ছে। বিপর্যস্ত চিকিৎসাব্যবস্থার পাশাপাশি সমূহ ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন। এহেন প্রেক্ষাপটে প্রায় ৬০ বছরের পুরনো সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্ট জাতিকে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য করণীয় ঠিক করতে বিজ্ঞজনের পরামর্শ নিতে এই সেমিনারের আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসজনিত প্রভাবে গোটা দুনিয়ায় যে অচলাবস্থা ও দুরবস্থা তৈরি হয়েছে তা থেকে নিস্তার পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। অর্থনীতিবিদদের মতে, করোনাকালের চেয়ে পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব হবে দীর্ঘস্থায়ী, যার আলামত ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। তাই এহেন পরিস্থিতিতে আল্লাহ তায়ালার প্রতি আমাদের এই বিশ্বাসকে অটুট করতে হবে যে, তাঁর সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে আমাদের ওপর এ মুসিবত আপতিত হওয়ার ছিল না। আবার তাঁর ইচ্ছা ছাড়া এ বিপদ কাটবেও না। আমাদের সব অভাব দূরীকরণে তাঁর কাছেই আমাদেরকে হাত পাততে হবে। আপতিত এ বিপদে আমাদেরকে সবরের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে হবে। সবর ও শোকরের সমন্বিত জিন্দেগিই প্রকৃত মুমিনের জিন্দেগি। হাদিসে রাসূলে সা: এমন বার্তাই আমাদের জন্য রয়েছে। জীবনের বিভিন্ন অঙ্গনে যে অচলাবস্থা, শিক্ষাঙ্গনে যে অনিশ্চয়তা তা থেকে উত্তরণের জন্য সম্ভাব্য সব বৈধ সুযোগ ব্যবহার করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালানো প্রয়োজন। এ দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট কাটিয়ে একটি দেশের সরকারের যেমন স্বচ্ছতার সাথে পরিকল্পিত উপায়ে সাহসী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি জনগণকেও বিদ্যমান সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। সর্বাবস্থায় আমাদেরকে আরো বেশি মানবিক হতে হবে।


আরো সংবাদ