০৫ জুলাই ২০২০

বজ্রাঘাতে পাঁচ জেলায় ৯ জনের মৃত্যু

-

বগুড়া, জয়পুরহাট, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক বজ্রাঘাতে চার কৃষকসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটে। বাংলা ট্রিবিউন।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার এরুইল বাজার, শাজাহানপুরের হরিণ গাড়ি গ্রাম, সারিয়াকান্দির কুড়িপাড়া চর এবং ধুনটের দেওড়িয়া গ্রামে বজ্রাঘাতে চার কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রাঘাতে কাহালুতে আহত হন তিনজন। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানান।
মৃত ব্যক্তিরা হলেনÑ কাহালুর এরুইল গ্রামের মৃত কছিমুদ্দিনের ছেলে মোকলেছার রহমান (৫৫), শাজাহানপুরের হরিণগাড়ি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম (৪০), সারিয়াকান্দির কুড়িপাড়া চরের বুলু মণ্ডলের ছেলে লেবু মণ্ডল (৩৫) ও ধুনটের দেওড়িয়া গ্রামের দেরাস সরকারের ছেলে আবদুস সালাম (৫৫)।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হাকিম জানান, কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের এরুইল বাজারের পাশে মাঠে ধান শুকাতে দেয়া হয়। বেলা সোয়া ৩টায় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তখন কৃষক মোকলেছার রহমান, একই গ্রামের মোহসিনের ছেলে রায়হান আলী (২৮), মৃত আহসান উল্লাহর ছেলে হাসান আলী (৩৫) ও মামুন (৩০) বস্তায় ধান তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে চারজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মোকলেছারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে হাসান আলীকে হাসপাতালে ভর্তি এবং অন্য দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ দিকে বেলা ৩টায় শাজাহানপুর উপজেলার হরিণগাড়ি গ্রামের একটি মাঠে কৃষক নুরুল ইসলাম কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই সময় সারিয়াকান্দির কুড়িরপাড়া চরে বৃষ্টি শুরু হলে কৃষক লেবু মণ্ডল গরু আনতে যান। তখন বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানান, বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টিতে দেওড়িয়া গ্রামে পটলের ক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কৃষক আবদুস সালাম ওই পানি নিষ্কাশনের জন্য বিকেল ৪টায় ক্ষেতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বজ্রপাতে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পারুলিয়া গ্রামে সুকোমল (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বেলা সাড়ে ৩টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহা: শাহরিয়ার খাঁন জানান, কৃষি কাজ সেরে বাড়ির উঠানে গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে সুকোমল গুরুতর আহত হন। পরে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুকোমল ওই গ্রামের মৃত রাজেন্দ্রনাথের ছেলে।
হবিগঞ্জের বাহুবলে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে শিশু-কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো দু’জন। নিহতরা হলো বাহুবল উপজেলার পুঁটিজুরি ইউনিয়নের নৌয়াঐ গ্রামের দরদ মিয়ার ছেলে ওকাইদ মিয়া (১১) এবং একই উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের মানিকা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে নরছ মিয়া (১৭)। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, দুপুরে ওকাইদ হাওরে মাছ ধরতে গেলে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আহত হন আরও দু’জন। তাদের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে নরছ মিয়া মানিকা হাওরে মাছ ধরতে গেলে বজ্রাঘাতে আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার স্বর্ণদ্বীপে মাটি কাটার কাজ করার সময় দুপুরে বজ্রাঘাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম রফিক উল্যাহ (৪০)। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের বাসিন্দা। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের এসব তথ্য জানান।
এ দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম পিয়ারা বেগম (৩৩)। তিনি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চরপাঁকা এলাকার হেরাস উদ্দিনের স্ত্রী। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ এ তথ্য জানান।


আরো সংবাদ