০৭ জুলাই ২০২০

সামাজিক অসচেতনতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে

-

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হওয়ায় ক্যাম্পে অবস্থানরত নারী-শিশুসহ অসচেতন রোহিঙ্গা সদস্যদের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এমনিতেই সামাজিকভাবে অসচেতন রোহিঙ্গারা করোনাভাইরাস বিশ্বাসই করতে চায় না। একাধিক রোহিঙ্গাকে করোনার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, ‘জন্ম-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। আমরা করোনা বিশ্বাস করি না। একমাত্র আল্লাহকে বিশ্বাস করি। যাদের ঈমান-আকিদায় ঘাটতি আছে তারাই করোনার কথা বলবে। আমরা মজলুম। আর মজলুমদের সাথে আল্লাহ আছেন।’
স্থানীয়রা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যাপক করোনা সংক্রমণের ঝুঁঁকি রয়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে উখিয়ার সাধারণ মানুষ নিজ উদ্যোগে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো রয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে। সাধারণত রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে অলস সময় কাটায়। ময়নাঘোনা ১১ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা জিয়াবুর রহমান বলেন, এনজিওরা আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী যেমনÑ তেল, পেঁয়াজ, চাল, ডাল ইত্যাদি দিয়ে থাকে। তবে তারা আমাদের মাছ গোশত দেন না। মাছ- গোশত খেতে আমরা কিছু রোহিঙ্গা স্থানীয়দের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন রকমের কাজ করে থাকি। করোনার কারণে আজ আমরা আগের মতো বের হতে পারি না। তাই আমাদের কষ্ট হচ্ছে। রোহিঙ্গারা শ্রম বিক্রি করে কিছু আয়-উপার্জন করত, এখন তা বন্ধ। এনজিওদের থেকে নিয়ে দিন এনে দিন খাওয়ায় করোনা প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্যে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন রোহিঙ্গারা। সরেজমিন ময়নাঘোনা ক্যাম্পে কোনো রোহিঙ্গাকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। তারা সামাজিক দূরত্বও মানছে না। যার কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো একধরনের আড়ালেই রয়ে গেছে। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিপূর্ণ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, দেরিতে হলেও রোহিঙ্গাদের জন্যে আলাদা আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। এরপরও তারা অত্যন্ত অসচেতন। তা ছাড়া এনজিওদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে। দিন দিন এনজিওকর্মী ও রোহিঙ্গারা করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে। এনজিওরা ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে উখিয়ায় বিভিন্ন ভাড়াবাসায় উঠেছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে জানান দিতে কোনো এনজিওর তৎপরতা তেমন দেখা যায়নি।
তিনি আরো বলেন, করোনা সংক্রমণের জন্য যেসব কারণ দায়ী তার সব কিছু ক্যাম্পে বিদ্যমান। ক্যাম্পে অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা, অতিরিক্ত জনসমাগম, স্বাস্থ্যকর উপকরণের অভাব এবং শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব করোনা সংক্রমণের প্রধান কারণ। রোহিঙ্গাদের পক্ষে উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের সচেতনতা তৈরিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা একান্ত দরকার।


আরো সংবাদ