০৭ জুলাই ২০২০
৩৩৪ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

পুরো দেশ পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের দাবি

-

দেশে করোনা মহামারী ভয়াবহভাবে বেড়ে যাওয়ায় পুরো দেশকে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাগরিক সমাজের ৩৪৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এ দাবি করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী ২রা জুন তারিখ পর্যন্ত দেশে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ আর মারা গেছেন ৭০৯ জন। ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) এর উপদেষ্টা ডা: মুশতাক হোসেন বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে সম্প্রতি জানিয়েছেন, ‘কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা শনাক্তের চেয়ে ৪০ গুণ বেশি’। সরকারি পর্যায়ে গত এক সপ্তাহ যাবত প্রতিদিনের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মোট টেস্টের শতকরা ২০-২৫ ভাগ কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত। তার মানে হলো টেস্টের সংখ্যা বাড়লে রোগীর সংখ্যা নিশ্চিতভাবে আরো বেশি বাড়বে। আমাদের টেস্টের সক্ষমতা প্রতিদিন ৩০ হাজার। অথচ এই সক্ষমতার অর্ধেকও আমরা এখনো কার্যকর করতে পারিনি।
অথচ এ রকম অবস্থাতেই ৩১ মে থেকে ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে’ অফিস, গণপরিবহনসহ সব কিছু খুলে দেয়া হলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সীমিত পরিসরে’ গণপরিবহন চালুর খেসারত হিসেবে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আন্তঃজেলা পরিবহনে এবং গণপরিবহনে শতকরা ৬০ ভাগ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী এবং নিন্দনীয়। আর এ দিনই দেশে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত ও মৃত্যু হয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরেও সংক্রমণ বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে করোনা। একজন শরণার্থী এরই মধ্যে মারা গেছে।
বিবৃতিদাতাদের দাবির মধ্যে রয়েছেÑ
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত অতি জরুরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জরুরি জনসেবাভিত্তিক কর্মকাণ্ড বাদে সমস্ত অফিস আদালত ও শ্রমঘন কারখানা বন্ধ রাখা হোক। খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি পণ্য পরিবহন বাদে সকল আন্তঃজেলা পরিবহন ও গণপরিবহন বন্ধ করা,
লকডাউন কার্যকর করার প্রধান শর্ত হিসেবে সব কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাবার ও নগদ অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। সব কল-কারখানার শ্রমিক, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতনভাতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং যেকোনো ধরনের ছাঁটাই বন্ধ রাখা।
তারা দেশের সব পর্যায়ে টেস্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর দাবি জানান।

 


আরো সংবাদ