৩১ মে ২০২০

প্রশাসনের সমন্বয়হীনতায় করোনা আতঙ্ক কাটছে না টঙ্গীবাসীর

-

শ্বাসকষ্টে ভোগা এ কিশোরের মৃত্যুর তিন দিন পরও সঠিক কোনো খবর না পাওয়ায় করোনা আতঙ্কে দিন পার করছে টঙ্গী এলাকাবাসী। এ ছাড়া আরেক গার্মেন্ট কারখানার চেয়ারম্যান মারা যাওয়ায় তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ব্যাপারেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে করোনা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে স্থানীয় প্রশাসনে সমন্বয়হীনতার কারণে নানা গুজব ছড়াচ্ছে ওই এলাকায়।
জানা গেছে, টঙ্গীর আউচপাড়া মোল্লা বাড়ি রোডের সাকিব (১৬) নামের ওই কিশোর আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পর দিন গত মঙ্গলবার রাত ৩টায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গে কিশোরের মৃত্যু হয়েছে এমন সংবাদে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ওই বাড়ির রোডে বাঁশের বেড়া দিয়ে সেখানে ব্যারিকেড তৈরি করে। কিন্তু রোগীর নমুনা নেয়া হলেও রিপোর্ট না আসায় তিন দিন ধরে হাসপাতালেই পড়ে থাকে লাশ।
গতকাল শুক্রবার সকালে নিহত সাকিবের রিপোর্ট জানতে চেয়ে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন খায়রুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছিলেন। এ পর্যন্ত আমাকে আর কিছু জানানো হয়নি। আমি নিজেও কুর্মিটোলা হাসপাতালে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অপরপ্রান্তে ফোন রিসিভ না করায় কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার বেলা ১১টায় টঙ্গী পশ্চিম থানা ওসি মো: এমদাদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা রিপোর্ট পেয়েছেন এবং তাতে নিহত সাকিবের নমুনা পরীক্ষায় কোভিট-১৯ নেগেটিভ এসেছে বলে জানান। তবে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট পাঠানোর সময় সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য নিহত সাকিবের মা সাথী বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টঙ্গী পশ্চিম থানা থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছে হাসপাতাল থেকে লাশ আনার জন্য। আমরা শুক্রবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশের জন্য হাসপাতালে অপেক্ষা করি। কিন্তু আমাদেরকে হাসপাতালের ভেতরেই ঢুকতে দেয়া হয়নি। হাসপাতাল থেকে আমাদেরকে জানানো হয়, এখনো তাদের কাছে (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের) রিপোর্ট আসেনি। ফলে তারা লাশ দিতে পারছে না।
অপর দিকে টঙ্গী শিল্প এলাকার আউচপাড়া স্কুইব রোডে পার্লস প্রিন্স গার্মেন্ট কারখানার চেয়ারম্যান তসলিম আক্তারের মৃত্যুতে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। করোনা সংক্রমণে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে তিনি মারা যান। কারখানাটিতে ছয় শতাধিক শ্রমিক কর্মরত ছিল। এতে তসলিম আক্তারের সংস্পর্শে থাকা কারখানার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শ্রমিকদের ভেতর সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তসলিম আক্তার তার ঢাকার বাসা থেকে সর্বশেষ কবে কারখানায় এসেছিলেন অথবা তার সংস্পর্শে কারখানার কেউ ছিলেন কি না এমন তথ্য এখনো পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নেই। তবে পার্লস প্রিন্স কারখানার একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে জানান, সর্বশেষ গত ২৪ মার্চ তসলিম আক্তার কারখানায় এসে অফিস করেন এবং ৫ এপ্রিল কারখানা বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানতে কারখানার জিএম মোবাইল ফোনে তসলিম আক্তারের সাথে কথা বলেন। তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং মৃদু স্বরে কথা বলছিলেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।


আরো সংবাদ