০১ জুন ২০২০

করোনা ঝুঁকিতে কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প

-

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো রয়েছে ঝুঁকিতে। এক দিকে যেমন রোহিঙ্গারা অবাধে চলাফেরা করছে, অন্য দিকে এনজিও সংস্থার দেশী-বিদেশী লোকজনও রয়েছে। উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সেবাকার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার ১২ শত বিদেশীর পাশাপাশি রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশী। তবে ২৫ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মানবিক সেবাকার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আতঙ্কে রয়েছে রোহিঙ্গারাও। টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে বিদেশফেরত এক পরিবারের চারজনসহ ১৫ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতির কথা বলা হচ্ছে।
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরে অনেকটা গাদাগাদি করে বসবাস করছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা। ঘনবসতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং বিদেশীদের আনাগোনার কারণে এসব ক্যাম্পে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক সেবা দিতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করছেন প্রায় এক হাজার ২০০ জন বিদেশী ও প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশী। ২৫ মার্চ থেকে সেবাকার্যক্রম সীমিত করার ঘোষণা এলেও এত দিন পর্যন্ত এই বিপুলসংখ্যক মানুষ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবাধে চলাচল করেছে। পাশাপাশি তারা নিজেদের বাড়িঘর, বাসা থেকে আসা-যাওয়া করেছে। শিবিরগুলোতে তুলনামূলক করোনার ঝুঁকি বেশি হলেও রোহিঙ্গারাও অবাদে স্বাভাবিক চলাচল করছে। অথচ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশের মতো পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করায় অনেকটা নিস্তব্ধ রয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা ও দেশী-বিদেশী এনজিও সংস্থার লোকজনের চলাফেরার এমন পরিস্থিতিতে ভয়াবহ আতঙ্কের কথা জানান স্বয়ং রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা বলছেন, ক্যাম্পগুলো আপাতত বিদেশী লোকসহ জরুরি কাজ ছাড়া কোনো বহিরাগত না আসুক। এলেও তাদেরকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পাঠানো হোক।
উখিয়ায় স্বল্প জায়গায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ ১০ লাখের অধিক মানুষের অবস্থান। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তায় দেশী-বিদেশী সংস্থাসহ অনেক মানুষ কাজ করছে। এ ছাড়াও নানা কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্প খুব ঝুঁকিপূর্ণ। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পর্যাপ্ত হাসপাতাল ও আইসোলেশনের ব্যবস্থাসহ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার হলেও কিছুটা শঙ্কিত থাকার কথা জানান এ কর্মকর্তা।
কক্সবাজারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা (আরআরআরসি) মাহবুব আলম তালুকদার জানান, ভারত থেকে এক পরিবারের চার জন ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা একজনসহ ১৫ জন রোহিঙ্গাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৫০ শয্যার কোয়ারেন্টিন বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪৭ শয্যার স্পেশাল হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাইরে থেকে আসা কোনো বিদেশীকে ক্যাম্পে যেতে দেয়া হবে না। সীমিতভাবে মানবিক সেবাকার্যক্রম যারা করছে তাদেরও সতর্কতার সাথে চলার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সেবাকার্যক্রমে দেশী-বিদেশীদের চলাচল ও রোহিঙ্গাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আরআরআরসি অফিসের গাফিলতি থাকলে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা স্থানীয়দের।


আরো সংবাদ

বগুড়ায় ডাক্তার-নার্সসহ আরো ৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত ১১ বছর আটকে রেখে যুবতীকে ধর্ষণ, ভণ্ড কবিরাজ আটক বাংলাদেশী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি লিবিয়ার হাসপাতালে ভর্তি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সংক্রমণ বিবেচনায় তিনটি জোনে ভাগ হবে দেশের বিভিন্ন এলাকা লালমোহনে বিদ্যুতস্পৃষ্টে ব্যাংকারের মৃত্যু চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার দায়ে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ড্রেজার ধ্বংস লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশী খুন : চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন হাজী কামাল নবাবগঞ্জে মানব সেবার দৃষ্টান্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার খুলনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রতিবন্ধী ভ্যান চালকের মৃত্যু

সকল