০৯ এপ্রিল ২০২০
ডিএনসিসির অ্যাডভোকেসি সভা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার বিকল্প নেই

-

গত বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাস ডেঙ্গু রোগের বিস্তার ঘটে। এতে শতাধিক লোকের প্রাণহানি ও লক্ষাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেন। এ জন্য এ বছর আগেভাগেই জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এর অংশ হিসেবে সংস্থার ১০টি অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আটটি অঞ্চলে এ সভা সম্পন্ন হয়েছে। এসব সভায় স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নিচ্ছেন। ডিএনসিসির উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় এডিস মশার উৎপত্তিস্থল, বংশবিস্তার, রোগজীবাণু বহন, মানুষকে আক্রান্ত করাসহ বিশ্বে ডেঙ্গু রোগের সামগ্রিক চিত্র ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে দেখানো হয়। এতে এলাকাবাসী সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
গতকাল উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে ডিএনসিসির ৮ নম্বর অঞ্চলের এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে এক সচেতনতামূলক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে দেখানো হয়। এতে বলা হয় ১২৬টি দেশে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে ২৫০ কোটির অধিক মানুষ, অর্থাৎ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের মধ্যে ১০টি দেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ রয়েছে, এসব দেশে প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। সিডিসির উপস্থাপনায় আরো বলা হয়, গত আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। সারা দেশে এক মাসেই প্রায় ৫৩ হাজার রোগী ভর্তির রেকর্ড করা হয়, যার অধিকাংশই ছিল রাজধানীতে। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এ তিন মাসে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব সর্বাধিক ছিল এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ বছরও একই সময়ে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে।
সভায় এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপন করেন ডিএনসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো: গোলাম মোস্তফা সারওয়ার। তিনি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ২০১৯ সালে ডিএনসিসির সামগ্রিক কার্যক্রম এবং ২০২০ সালে চলমান ও আসন্ন এডিস মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যে আমরা গত বছর বিভিন্ন আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একাধিক অবহিতকরণ সভা, সচেতনতামূলক পদযাত্রা ও পথসভা, বাউলসঙ্গীত, জাতীয় পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি, সচেতনতামূলক বার্তা, টেলিভিশনে টিভিসি প্রচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এ ছাড়া ডিএনসিসির মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম দেশের জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকগণ ও টেলিভিশন মালিক ও বার্তা প্রধানদের সাথে মতবিনিময় করেছেন, যা এ বছরও অব্যাহত থাকবে। লে. কর্নেল সারওয়ার আরো জানান, গত বছর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাসাবাড়ি পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রতিবেশীর বাসাবাড়িও পরিদর্শন করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করেছে। আমরা এবারো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একই কার্যক্রম প্রত্যাশা করছি। এ ছাড়া মেয়রের নেতৃত্বে ডিএনসিসির সব বিভাগ ও ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণের সমন্বয়ে আমরা ‘চিরুনি অভিযান’ পরিচালনা করি। তিনি আরো বলেন, গত বছর ইমামরা প্রতি জুমার নামাজে তাদের বয়ানে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। আমরা আশা করব, এবারো ইমামরা আরো সক্রিয়ভাবে থাকবেন। তিনি আরো বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম আরো বেগবান করতে এরই মধ্যে ২০০টি ফগার মেশিন, ২৩৮টি পালস ফগমেশিন, ১৫০টি হার্টসন হস্তচালিত মেশিন, ৩৪০টি প্লাস্টিক হস্তচালিত মেশিন, ২টি ভেহিকল মাউন্টিং ফগার মেশিন, ১০টি মোটরসাইকেল ফগার ও হস্তচালিত মেশিন, ২০টি মিস্ট ব্লোয়ার/পাওয়ার ¯েপ্র মেশিন দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো কয়েকটি ভেহিকল মাউন্টিং ফগার মেশিন ক্রয়ের পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় এক হাজার বিঘা জলাশয়/ডোবা/পুকুরের জলজ আগাছা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করেছি, যা এখনো চলমান।
ডিএনসিসির অঞ্চল ৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে অঞ্চল ১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকারনায়ন ও অঞ্চল ৭-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন, উত্তরখান এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদের ইমাম, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ, এনজিও কর্মী এবং সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ