০৯ এপ্রিল ২০২০

খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে : আইনমন্ত্রী

-

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন আছে এবং সেখানে পরিষ্কারভাবে বলা আছে এ পদ্ধতিতে মুক্তির জন্য কোথায় কিভাবে দরখাস্ত করতে হবে। প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি প্রফেশনাল করতে গেলে আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে। তাই প্যারোলে মুক্তির দরখাস্ত এবং সব নিয়মকানুন মানার পরেই সরকার এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত দরখাস্ত বা এরকম কিছু পাওয়া না যাবে ততক্ষণ হাওয়ার ওপরে কথা বলার প্রয়োজন নেই।
গতকাল রোববার রাজধানীর প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ সংস্থাগুলোর জন্য প্রণীত আইনবিষয়ক ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নট-ফর-প্রফিট ল (আইসিএনএল) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ও সঞ্চালক ছিলেন শারমিন খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী বলেন, সুশীলসমাজ প্রত্যকটি মানুষের মৌলিক অধিকারের সাথে সম্পর্কযুক্ত, সুশীলসমাজের অধিকারের সাথে যুক্ত নয়। সুশীলসমাজ আইন ও বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয় হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিক মনোভাব গঠন এবং তা টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও রয়েছে এ সমাজের।
তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সুশীলসমাজ নাগরিকগণের উদ্বেগ, অগ্রাধিকার এবং সুযোগ-সুবিধার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটাই স্বাভাবিক। সরকার এটিকে স্বাগত জানাবে। কিন্তু কখনো কখনো আমরা লক্ষ করি, বাংলাদেশের সুশীলসমাজের অনেকে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের কিংবা আন্তর্জাতিক সংগঠনের সহযোগী হিসেবে রাজনৈতিক মঞ্চে এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের বিপরীতে অবতীর্ণ হন যা আমাদের সুশীলসমাজের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে পীড়া দেয়।
আনিসুল হক বলেন, এসব দুর্বলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সুশীলসমাজ জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং কল্যাণ নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এটিই আমাদের সবার কাম্য। দেশ আমাদের, দেশ নিয়ে, দেশের উন্নয়ন নিয়ে আমরা সবাই ভাবব, কথা বলব, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো এমন কর্মকাণ্ডই হোক আমাদের আগামী দিনের পথ ও পাথেয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ও বাংলাদেশে ডিএফআইডির সিনিয়র গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার ও গভর্ন্যান্স টিম লিডার এসলিন বেকার। প্যানেল আলোচক ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য আরমা দত্ত।


আরো সংবাদ