০৯ এপ্রিল ২০২০

সাংবাদিক হেনস্তাকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা ইয়াবাসহ গ্রেফতার

-

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাংবাদিকদের হেনস্তা করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই জিডি করা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা শহিদুল ইসলাম খান রিয়াদকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে সূত্রাপুর থানা পুলিশ। গত শনিবার রাতে রায়সাহেব বাজার এলাকা থেকে রিয়াদসহ দুইজনকে আটক করা হয়। গ্রেফতার অন্যজন হলেন খোকন।
সূত্রাপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী সাংবাদিকদের জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে ইয়াবাসহ রিয়াদ ও খোকনকে আটক করা হয়। তাদের তল্লাশি করে চার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে মাদক আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গেন্ডারিয়ার ফরিদাবাদে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাহবুব মমতাজি, ডেইলি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নূরুল আমিন জাহাঙ্গীর ও দিন প্রতিদিন পত্রিকার রিপোর্টার পাপনকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহসভাপতি রিয়াদ ও তার সহযোগীরা। তাদের দেড় ঘণ্টা ধরে ভোট কেন্দ্রের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তাদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীকালে পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা ছাড়া পান। এর পরের দিন উল্টো তিন সাংবাদিকের নামেই গেন্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রিয়াদ। জিডিতে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রিয়াদ অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরা কেন্দ্রে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট হিসেবে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে’ রিয়াদকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি।
জানা গেছে, ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা রিয়াদ পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী। মতিঝিল থানা পুলিশ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্র কেনাবেচার সময় নাহিদুল ইসলাম ও নাজমুল হোসেন নোমানকে বিদেশী অস্ত্রসহ গ্রেফতারের পর রিয়াদের নাম বেরিয়ে আসে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতেও বলেছেন, ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ এবং কামরুল ইসলাম তাদের অস্ত্র বিক্রির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। পরে ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর রিয়াদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রিয়াদ শুধু অস্ত্র ব্যবসায় নয়, তিনি একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া এলাকায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অস্ত্র মামলায় রিয়াদের বিরুদ্ধে যখন চার্জশিট দেয় পুলিশ তখন তিনি গেন্ডারিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তখন ছাত্রলীগ তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি ২০১৮ সালে তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহসভাপতির পদ দেয়া হয়।


আরো সংবাদ