০৫ জুলাই ২০২০
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ

-

ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিপদ কাটছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কর্মকর্তারা বিভিন্ন ঋণ প্রদান, ঋণের সুদ মওকুফ, ঋণ নবায়ন, রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা প্রদান করে থাকে। অনেক সময় নিয়মের মধ্যে না পড়লেও কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঋণ তথ্যের ফাইলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন অধীনস্থ ব্যাংক কর্মকর্তারা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ও দুদকের তদন্তে সেসব কর্মকর্তারা ফেসে যান। নির্দেশদাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও দুদকের মামলায় আটকে পড়েন অনেক সময় নিরীহ ব্যাংক কর্মকর্তারা। এতে অনেকেই অকালে চাকরি হারান। দুদকের মামলায় অনেকের জেল জরিমানা পর্যন্ত হয়। এবার বিভিন্ন কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের নামের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিবিভাগ থেকে এ বিষয়ে এক সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১২ সালে ‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়; জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ প্রণয়ন করা হয়। ব্যাংকিং খাতে কৌশলপত্রটি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে সিএমএমএস (করপোরেট মেমোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) নামক সফটওয়্যার তৈরি করা হয়। ওই সফটওয়ারে বিভিন্ন কারণে ব্যাংকের শাস্তিমূলক কর্মকর্তাদের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারিকৃত সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক কর্মকর্তাকে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হলে তাদের তথ্যাদি যেমন, কর্মকর্তার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, স্থায়ী ঠিকানা, চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের তারিখ ও কারণ উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মনোনীত কর্মকর্তার মাধ্যমে সিএমএমএসে এন্ট্রি প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার তিন কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভূক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাদির পক্ষে নথির কপি বাংলাদেশ ব্যাংকের সচিব বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে, আদালত থেকে কোনো কর্মকর্তার শাস্তি শিথিল বা মওকুফ করা হলে সিএমএমএস হতে আলোচ্য কর্মকর্তার তথ্যাদি দিন কার্যদিবসের মধ্যে তুলে ফেলার জন্য বলা হয়েছে।


আরো সংবাদ