২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ১ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`
বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসে কৃষিমন্ত্রী

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে - ফাইল ছবি

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও শস্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপক‚লের লবণাক্ত, হাওর, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ প্রতিকূল পরিবেশে ও জমিতে ফসল উৎপাদনে সরকার এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।

গতকাল রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনার, শোকেসিং, সয়েল কেয়ার অ্যাওয়ার্ড ও মৃত্তিকা দিবস পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি এবং প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ক্রমহ্রাসমান চাষযোগ্য জমি, বিপরীতে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠী ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই বা ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার এখন সকল মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করছে।

‘লবণাক্ততা রোধ করি, মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করি’ এই প্রতিপাদ্যে এবারের বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালিত হয়। এর উপর গুরুত্ব দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ত জমির পরিমাণ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায়, খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা স্থিতিশীল ও টেকসই রাখতে হলে উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে চাষযোগ্য জাত এবং উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ছড়িয়ে দিতে হবে। সেজন্য, আমরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি।

ইতোমধ্যে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা অনেক ফসলের লবণাক্ততাসহিষ্ণু উন্নত জাত উদ্ভাবনে করতে সক্ষম হয়েছে। এসব জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি চাষীদের মধ্যে দ্রæত সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলছে।

পরে কৃষিমন্ত্রী মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট প্রকাশিত ‘সয়েল অ্যাটলাস অব বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন ও মৃত্তিকার উপর শোকেসিং ঘুরে দেখেন। সেমিনারে জানান হয়, বাংলাদেশের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা হচ্ছে উপক‚লীয় এলাকা। উপক‚লীয় ১৮টি জেলার ৯৩টিরও বেশি উপজেলার ১০ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ততায় আক্রান্ত, যা এই এলাকার ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন, ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল।

পরে বিকেলে কারিগরি সেশনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম সয়েল কেয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২১, সয়েল অলিম্পিয়াড এবং মৃত্তিকা দিবসের পুরস্কার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এসময় তিনি বলেন, জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, উপক‚লের লবণাক্ত জমিকে কাজে লাগাতে না পারলে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হবে না। সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহ সঠিক পথে নিরলসভাবে কাজ করছে। ফলে, আগে যেখানে বছরে একটি ফসল হতো, এখন সেখানে ২-৩টি ফসল হচ্ছে। এসব কার্যক্রমকে আরও জোরদার ও গতিশীল করতে মন্ত্রণালয় প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছে।


আরো সংবাদ


premium cement