২২ জুন ২০২১
`

কাদের মির্জার এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি গুলিবিদ্ধ

কাদের মির্জার এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি গুলিবিদ্ধ - ছবি - সংগৃহীত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আবারো উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, পৌরসভা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মির্জার অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে। মির্জা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নোয়াখালীর এই উপজেলাটি গত বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত হচ্ছে মূলতঃ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের ভাই আব্দুল কাদের মির্জার সাথে দলের স্থানীয় নেতাদের সাথে বিরোধের জের ধরে। বিতর্ক শুরু হয়, স্থানীয় পৌরসভা নির্বাচনে মির্জা প্রার্থী হবার পর নিজ দলেরই বিরুদ্ধাচারণ করে নানা বক্তব্য দিতে শুরুর করার পর। এক পর্যায়ে গতমাসের শেষভাগে আওয়ামী লীগ থেকেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন মির্জা।

নোয়াখালীর বসুরহাট থেকে স্থানীয় সাংবাদিক ইকবাল হোসেন মঞ্জু জানাচ্ছেন, সোমবার বেলা এগারোটার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরনবী চৌধুরী গুলিবিদ্ধ হন। মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় মাস্টারপাড়া এলাকায় তার পায়ে গুলি করা হয়। অপর পায়েও মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হচ্ছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। চৌধুরীর মোবাইল নম্বরে টেলিফোন করা হলে নোমান চৌধুরী নামের একজন ব্যক্তি ফোন ধরে তার ছোটভাই পরিচয় দেন। তিনি অভিযোগ করেন, কাদের মির্জার সন্ত্রাসীরা তার ভাইয়ের পায়ে গুলি করেছে। এরপর কাঠ দিয়ে পিটিয়েছে। অচেতন অবস্থায় তাকে এখন তারা ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন।

তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে মির্জা বিবিসিকে বলছেন, তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে ঘরে রয়েছেন। তার কোন লোকজন মি. চৌধুরীর ওপর হামলা করেনি। বরং অনিয়ম করার কারণে মানুষজনই ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মেরেছে বলে তিনি শুনতে পেয়েছেন। সংবাদদাতারা বলছেন, নোয়াখালীতে আব্দুল কাদের মির্জার বিরোধী পক্ষের একজন অনুসারী চৌধুরী।

গত ৯ই মার্চ কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সন্ধ্যায় একজন নিহত হওয়ার পর ওই এলাকায় দুইদিন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল।

যে কারণে কাদের মির্জাকে নিয়ে আলোচনা
বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা পৌরসভা নির্বাচনের সময় আগে নির্বাচনী ব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং নোয়াখালী অঞ্চলের আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব-অসংগতি নিয়ে বক্তব্য দেন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। আব্দুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আপন ভাই।

নির্বাচনের আগে প্রচারণায় আবদুল কাদের মির্জার যে বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, তিনি তাতে বলেছিলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিন-চারটি আসন বাদে তাদের অন্য এমপিরা পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। নির্বাচনে মেয়র হওয়ার পরো তিনি বক্তব্য দেয়া অব্যাহত রাখেন

ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে এই এলাকায় আওয়ামী লীগের বিবদমান দু'টি গোষ্ঠীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মূলত স্থানীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যেই এই বিরোধের তৈরি হয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে গত কয়েকমাসে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত একত্রিশে মার্চ ফেসবুক লাইভে এসে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আব্দুল কাদের মির্জা।

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ