১৭ এপ্রিল ২০২১
`
পিকে হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারি

তদন্তের আওতায় এলো তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান

তদন্তের আওতায় এলো তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান - ছবি : সংগৃহীত

বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্তের আওতায় এসেছে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এ তিন প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণের অবস্থা, কারা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন তাদের তথ্য ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা নিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তের জন্য কমিটির পরিধিও বাড়িয়ে ৫ থেকে ৭ এ উন্নীত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, পি কে হালদার কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণের নামে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে এ ঋণ কেলেঙ্কারি ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এ বিষয়ে গত ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুন বাগিচা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হককে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিলে তিন দিনের মাথায় ২৬ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তিনি। ওই জবানবন্দীতে পি কে হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারির সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী ওরফে এস কে সুর চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমের নাম উল্লেখ করেন।

এরপর পি কে হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে ওই কমিটির অন্যান্যের মধ্যে একজন নির্বাহী পরিচালক, দুইজন মহাব্যবস্থাপক ও একজন উপমহাব্যবস্থাপককে রাখা হয়। প্রথমে উচ্চ আদালতের নির্দেশে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে এ তদন্তের আওতায় আরো দু’টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা হয়। ফলে প্রাথমিকভাবে তদন্তের আওতায় আসে তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একই সাথে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটির পরিধিও বাড়িয়ে ৫ থেকে ৭ এ উন্নীত করা হয়। নতুন দুই সদস্যের মধ্যে রাখা হয় সাবেক সচিব নুরুর রহমান ও সাবেক ডিস্ট্রিক জাজ ও দুদকের পরিচালক সাইদুল ইসলামকে।

সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী সপ্তাহে শুরু হতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ, ওই ঋণের বর্তমান অবস্থান এবং কারা এসব ঋণ গ্রহণ করেছেন এবং ওই সব ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা এসব বিষয়ে তদন্তের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কমিটির বৈঠকেই ঠিক করা হবে প্রথমে কোন বিষয়টি আগে আনা হবে।

প্রসঙ্গত, পি কে হালদার ২০০৮ সালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে তিনি নতুন প্রজন্মের ব্যাংক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে কানাডায় অবস্থানকারী পি কে হালদার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ফাস ফাইন্যান্স থেকে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে তিন হাজার কোটি টাকা এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

গত বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ ক্যাসিনো মালিকদের সম্পদের তদন্ত শুরু করলে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে। চলতি বছর ৮ জানুয়ারি দুদক অজ্ঞাত সূত্র থেকে প্রায় ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে।

এ দিকে আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল হক দাবি করেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা অনিয়ম চাপা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদের পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে দিতে হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক শাহ আলমকে প্রতি মাসে দেয়া হতো দুই লাখ টাকা করে। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব অনিয়ম ‘ম্যানেজ’ করতেন তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সার্বিক অবস্থা নিয়েই তদন্ত করবে কমিটি। আগামী সপ্তাহ থেকেই কমিটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।



আরো সংবাদ