২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
`

মঙ্গলের কক্ষপথে আমিরাতের ‘আমাল’

দুবাইয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে আমিরাতের মঙ্গল অভিযানের সম্প্রচার - ছবি : আরব নিউজ/এপি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মহাশূন্য অভিযানের প্রথম মিশনে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করেছে দেশটির অনুসন্ধানী মহাকাশযান ‘আমাল’ (আশা)। সাত মাসের দীর্ঘ ৪৯৪ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার পর আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭.৪২ মিনিটে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে আমাল।

আমালের মঙ্গলে প্রবেশের পর মিশন প্রকল্পের ম্যানেজার ওমরান শারাফ ঘোষণা করেন, ‘আমিরাত, আরব ও মুসলিম জাতিগুলোর সব জনসাধারণের প্রতি ঘোষণা, আমরা মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছেছি।’

মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করতে আমালকে তার মোট আট শ’ কেজি জ্বালানির অর্ধেকেই পুড়িয়ে শেষ করতে হয়েছে, যাতে মঙ্গলের অভিকর্ষের শক্তি মোকাবেলা করে আমাল মঙ্গলের কক্ষপথে আবর্তনে সক্ষম হয়।

আমাল এক মঙ্গলবর্ষ বা ৬৮৭ দিন লাল এই গ্রহের কক্ষপথে অবস্থান করবে। তিনটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ব্যবহার করে এই সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান যানটি মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের তথ্য জরিপ করবে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংগৃহীত তথ্য পৃথিবীতে পাঠানো শুরু করবে আমাল।

মঙ্গলবারের এই সাফল্যের মাধ্যমে পঞ্চম দেশ হিসেবে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছালো সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এদিকে গত বছরের জুলাইয়ে আমিরাতের মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে অনুসন্ধান যান ‘আমালকে’ পাঠানোর পরপরই চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধান মহাকাশযান পাঠায়। ফেব্রুয়ারিতেই তা পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

২০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে আমিরাতের মঙ্গল গ্রহে যাওয়া এই মহাকাশযান জাপানের একটি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত হয়েছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে দক্ষতার উন্নতি এবং জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর অংশ হিসেবে মঙ্গল অভিযানের এই প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। আমিরাতের মহাকাশ সংস্থা ২১১৭ সালের মধ্যে মঙ্গলের আবাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে।

এদিকে আমিরাতের মহাকাশ সংস্থার এই সাফল্যে অভিনন্দন জানাতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাখতুম ও আবুধাবীর যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান দুবাইয়ের আল-খাওয়ানিজে মিশনের কন্ট্রোল রুমে যান।

শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাখতুম মিশন সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আজকে আরব ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।’

তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত তার সুবর্ণজয়ন্তী বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও অনুপ্রেরণার সাথেই উদযাপন করবে। কেননা উন্নয়নের আদর্শ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

সূত্র : আরব নিউজ, আলজাজিরা



আরো সংবাদ